×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৩ জুন ২০২১ ই-পেপার

সরে দাঁড়াতে রতন টাটার আর্জি ফিরিয়ে দেন মিস্ত্রি

সংবাদ সংস্থা
মুম্বই ১০ জানুয়ারি ২০১৭ ০২:৩৩

তখনও শুরু হয়নি পরিচালন পর্ষদের বৈঠক। টাটা সন্সের মাথা থেকে সরে যেতে সাইরাস মিস্ত্রিকে ব্যক্তিগত ভাবে অনুরোধ করলেন রতন টাটা। কিন্তু বেঁকে বসলেন মিস্ত্রি। গত ২৪ অক্টোবর মিস্ত্রির এই প্রতিরোধই লড়াইয়ের পথে ঠেলে দেয় টাটা ও মিস্ত্রির পরিবার শাপুরজি-পালোনজিকে।

ঘোরালো হয়ে ওঠে টাটা-মিস্ত্রি বিরোধ। শেষ পর্যন্ত গত ২৪ নভেম্বর ভোটাভুটির মাধ্যমে টাটা সন্স তার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয় মিস্ত্রিকে। অভিযোগ আনে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে। দু’পক্ষের চাপান-উতোর চলতে থাকে, যার জেরে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালে (এনসিএলটি) মামলা করে মিস্ত্রির পরিবার। সোমবার সেখানেই ২০৪ পৃষ্ঠার হলফনামা দাখিল করে মিস্ত্রির বিরুদ্ধে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার এই অভিযোগ এনেছে টাটা সন্স।

সেখানেই বলা হয়েছে, ওই দিন রতন টাটা ও টাটা সন্সের অন্যতম ডিরেক্টর নীতিন নোহরিয়া আলাদা করে কথা বলেন সাইরাস মিস্ত্রির সঙ্গে। নিজের থেকে টাটা সন্সের এগ্‌জিকিউটিভ চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তাঁকে, যাতে কান দেননি মিস্ত্রি। এ বার টাটা সন্সের ডিরেক্টর পদ থেকেও সাইরাস়কে সরাতে শেয়ারহোল্ডারদের বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) ডাকা হয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি। আর, তার ঠিক আগেই ট্রাইব্যুনালে হলফনামা দাখিল করে মিস্ত্রির বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগের ফিরিস্তি দিল টাটারা। মিস্ত্রি শিবিরের পক্ষ থেকেও এ দিন পাল্টা দাবি, তারা সব বিষয়ের উপযুক্ত জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দাখিল করবে।

Advertisement



হলফনামায় টাটা সন্সের দাবি, মিস্ত্রিকে আচমকা সরিয়ে দেওয়া হয়নি। ২৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্তের জন্য পরিস্থিতি অনেক আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। বেশ কিছু ঘটনার জেরে তাঁর প্রতি টলে গিয়েছিল টাটা সন্সের আস্থা। এ দিন টাটাদের আনা অভিযোগের তালিকায় যে-সব বিষয় জায়গা করে নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

১) টাটা সন্সের পরিচালন পর্ষদে ডিরেক্টর মনোনয়ন করার অধিকার মিস্ত্রির পরিবার শাপুরজি পালোনজি-র নেই। টাটা গোষ্ঠীর হোল্ডিং সংস্থা টাটা সন্সে ১৯৮০ সালে শাপুরজি-পালোনজি পরিবারের প্রথম ডিরেক্টর নিযুক্ত হন পালোনজি শাপুরজি মিস্ত্রি। ২০০৪ সালে তিনি অবসর নিলে দু’বছর বাদে ছেলে সাইরাসকে ডিরেক্টর করা হয়। তবে তাঁরা কেউই মনোনয়নের মাধ্যমে টাটা সন্সে আসেননি। সাইরাসকে নিয়োগের প্রস্তাব এনেছিলেন খোদ রতন টাটাই।

২) চেয়ারম্যান হিসেবে মিস্ত্রির চার বছরের মেয়াদে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে উঠেছে বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন। যেমন, লগ্নি সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বাণিজ্য পরিকল্পনা ইত্যাদি খোলসা করে জানাতেন না তিনি। ব্যবসা বাড়ানোর দিশাও দেখাতে পারেননি তিনি।

৩) নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাতের মূল জায়গা হল, টাটা সন্স পরিচালনার বিধি মানতে চাইতেন না মিস্ত্রি। গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থায় টাটা সন্সের প্রতিনিধিত্ব বিভিন্ন ছক কষে কমিয়ে আনছিলেন তিনি। টাটা সন্সের কেউ অবসর নিলে অতীতের ঐতিহ্য না-মেনে সেখান থেকে নতুন ডিরেক্টর আনা হচ্ছিল না মিস্ত্রির আমলে।

৪) মিস্ত্রির লক্ষ্য ছিল নিজের ক্ষমতা জাহির করা। টাটা সন্স ও টাটাদের বিভিন্ন সংস্থায় অভিন্ন ডিরেক্টর হিসেবে যাতে তিনিই থাকেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন মিস্ত্রি। এতে টাটা গোষ্ঠী পরিচালনার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছিল বলেই অভিযোগ
এনেছে টাটা সন্স।

Advertisement