চলতি বছরে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর করতে পারে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই নিয়ে জল্পনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রকাশ্যে এল আরও এক খুশির খবর। বর্ধিত বেতন চালু হওয়ার আগেই তাঁদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স) প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের প্রস্তাব মেনে নতুন বেতন কাঠামো চালু হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিন বার ডিএ পেতে পারেন তাঁরা, খবর সূত্রের।
সাধারণ ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বছরে দু’বার মহার্ঘ ভাতা পেয়ে থাকেন। প্রথম বার মার্চে এবং দ্বিতীয় বার অক্টোবরে। সূত্রের খবর, কমিশনের প্রস্তাব মেনে নতুন বেতন কাঠামো চালু করতে ২০২৭ সালের মার্চ পেরিয়ে যাবে। আর তাই সংশ্লিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিয়মমাফিক মোট তিন বার ডিএ পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের একাধিক সংগঠন। যদিও প্রশাসনিক স্তরে এই নিয়ে কোনও ঘোষণা হয়নি।
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম মেনে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা। এর পরিমাণ মূল বেতনের (বেসিক পে) ৫৮ শতাংশ। সাধারণ ভাবে দুই থেকে চার শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে থাকে ডিএ। সেই হিসাবে মার্চে মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ ন্যূনতম ৬০ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছরের অক্টোবর এবং ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত হিসাবে সেটা আরও বেড়ে পৌঁছোতে পারে প্রায় ৭০ শতাংশে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-’১৬ সাল পর্যন্ত চালু থাকা ষষ্ঠ বেতন কমিশনে ডিএ বৃদ্ধির অঙ্ক ছিল সর্বাধিক। ওই সময়সীমায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা বাবদ মূল বেতনের (বেসিক পে) ১২৫ শতাংশ পেয়েছিলেন। ১৯৯৬-২০০৬ সাল পর্যন্ত চালু থাকা পঞ্চম বেতন কমিশনে ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল ডিএ। অর্থাৎ তুলনামূলক ভাবে সপ্তম বেতন কমিশনে অনেকটাই ধীরে এবং কম বেড়েছে মহার্ঘ ভাতা।
২০২০ সালে কোভিড অতিমারির সময় ১৮ মাসের জন্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ স্থগিত রাখে কেন্দ্র। পরে অবশ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেয় মোদী প্রশাসন। তবে এতে হ্রাস পায় ডিএ বৃদ্ধির গতি। সূত্রের খবর, এই ধরনের সমস্যা এড়ানোর ব্যাপারে তৎপর হয়েছে অষ্টম বেতন কমিশন। ফলে আগামী দিনে ডিএ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে পারে।
গত বছরের নভেম্বরে অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করে কেন্দ্র। কর্মচারীদের প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য তাদের ১৮ মাস সময় দিয়েছে মোদী সরকার। ফলে নতুন নিয়মে ২০২৭ সালের মাঝামাঝির আগে নতুন বেতন কাঠামো চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সেটা শুরু হলে অবশ্য ফের শূন্যে নেমে আসবে মহার্ঘ্য ভাতা। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে পেনশনভোগীদের জন্যেও।