লুচি খেতে ভালবাসেন। কিন্তু খেতে পারছেন না, কারণ ময়দা খাওয়া বারণ। স্যান্ডউইচ আপনার প্রিয়। কিন্তু সে দিকে হাত বাড়ানোর জো নেই। কারণ রোগা হওয়ার জন্য আর সুস্থ থাকার জন্য এক মাস ময়দা ছুঁয়েও দেখবেন না বলে পন করেছেন। কিন্তু ময়দা কি সত্যিই এতটা বিষাক্ত? সমাজমাধ্যম প্রভাবীদের নানা পরামর্শের ঠেলায় অন্তত তেমনই বিশ্বাস মানুষের। কিন্তু কেন ময়দা স্বাস্থ্যকর নয়, তা জানেন কি?
ময়দা কেন স্বাস্থ্যকর নয়?
ময়দা আসলে অতি প্রক্রিয়াজাত একটি খাবার। এটি যখন তৈরি করা হয়। তখন গমের ওপরের স্তর আর অঙ্কুরোদ্গমের অংশটি ছেঁটে ফেলা হয়। ফলে ফাইবার একেবারেই থাকে না। এতে হজমে সমস্যা হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি যে খানে, সেটি হল— ময়দা রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়িয়ে দেয়। এতে ডায়াবিটিস ও স্থূলত্বের ঝুঁকি বাড়ে। প্রক্রিয়াকরণের সময় ভিটামিন আর খনিজও নষ্ট হয়ে যায়। তাই গুণ বলতে কিছুই থাকে না।
তবে ময়দা কি একেবারেই বাদ দিতে হবে?
ময়দা খেলেন না। অথচ তার পরেই দেখলেন দুনিয়ার অর্ধেকের বেশি সুস্বাদু খাবার ময়দা দিয়েই তৈরি। তা হলে কী করবেন? পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ময়দা খাদ্যাভ্যাসের প্রধান অংশ হওয়াঔও উচিত নয়। মাঝে মাঝে শখে পরোটা, লুচি বা কেক খাওয়া চলতেই পারে। কিন্তু যদি সিলিয়াক ডিজিজ বা গ্লুটেন অ্যালার্জি থাকে, তা হলে ঝুঁকি না নেওয়াই ভাল।
দিনে কতটুকু ময়দা খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের ক্যালরির মাত্র ১০-১৫% রিফাইন করা শর্করা অর্থাৎ ময়দা বা চিনি থেকে আসা উচিত। সাধারণ সুস্থ মানুষ দিনে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ গ্রাম ময়দা খেতে পারেন। যা ২-৩টি ছোট লুচি বা ১টি মাঝারি পরোটা খেলেই ওই মাত্রা ছুঁয়ে ফেলবে। তবে যদি ওজন কমাতে চান তবে এমন রোজ না খাওয়াই ভাল। বড়জোর সপ্তাহে ১-২ দিন খাওয়া যেতে পারে। আর যদি ডায়াবিটিসের সমস্যা থাকে, তবে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভাল, একান্তই খেলে খুব সামান্য পরিমাণে খেতে হবে।
ময়দা খেতে হলে যা মাথায় রাখবেন
ফাইবারের সঙ্গে মেশান: ময়দার তৈরি খাবারের সাথে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি বা স্যালাড খান। এটি রক্তে শর্করা হঠাৎ করে বাড়তে দেবে না।
আটার সঙ্গে মেশান: ময়দার বদলে লাল আটা ব্যবহার করতে পারেন। অথবা ময়দা ও আটা ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে রান্না করতে পারেন। তাতে ফাইবারের পরিমাণ বাড়বে।
জল পান: ময়দার খাবার খেলে ওই দিন প্রচুর জল পান করুন যাতে হজমে সমস্যা না হয়।
আসলে ময়দা খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার চেয়ে নিয়ন্ত্রণ করা বেশি জরুরি। সপ্তাহে ৫ দিন আটার রুটি আর ২ দিন শখ করে ময়দার খাবার খেলে আপনার শরীরের খুব একটা ক্ষতি হবে না।