নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই দেশের আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে সুখবর। বুধবার, ৭ জানুয়ারি কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫-’২৬) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) সম্ভাব্য হার দাঁড়াবে ৭.৪ শতাংশ। গত আর্থিক বছরে (২০২৪-’২৫) সাড়ে ছ’শতাংশে আটকে ছিল এই সূচক। উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্যই জিডিপির হার আরও কিছুটা বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দিন আর্থিক বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ঘোষণা করে কেন্দ্রের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক। সরকারি ভাবে সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে মোট মূল্য সংযোজন বা প্রকৃত জিভিএ-র (গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড) ৭.৩ শতাংশে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রধান চালিকাশক্তি হল পরিষেবা ক্ষেত্র। সেখানে বৃদ্ধির সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সার্বিক ভাবে অর্থনীতিতে দুরন্ত গতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।’’ পাশাপাশি, উৎপাদন এবং নির্মাণশিল্পের সূচক সাত শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।
পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের কর্তাব্যক্তিদের অনুমান, এই অর্থবর্ষে কৃষি, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বৃদ্ধির হার থাকবে মধ্যম মানের। গত বছরের অগস্ট থেকে নয়াদিল্লির পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সেখানকার বাজারে কোনও সামগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে ভারতকে দিতে হচ্ছে ৫০ শতাংশ শুল্ক। এই পরিস্থিতিতে জিডিপি বৃদ্ধির হার সাত শতাংশের বেশি থাকাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকেরা। নয়াদিল্লির সঙ্গে অবশ্য বাণিজ্যচুক্তি সেরে ফেলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন, যা এখনও বাস্তবের মুখ দেখেনি।
কেন্দ্রের অনুমান, বর্তমান মূল্যে জিডিপি (নমিনাল জিডিপি) পৌঁছোবে আট শতাংশে। মন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থির মূল্য জিডিপি বা প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে ২০১.৯ লক্ষ কোটি টাকার আশপাশে থাকতে পারে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে এর অঙ্ক ছিল ১৮৭.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত এক বছরে এতে ৭.৪ শতাংশের বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে।
এ ছাড়া চলতি মূল্যে জিডিপি বা নামমাত্র জিডিপি ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে ৩৫৭.১৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছোবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে যা ছিল ৩৩০.৬৮ লক্ষ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এতে সূচক বাড়তে পারে আট শতাংশ।