ভেনেজ়ুয়েলা-কাণ্ডের জেরে মার্কিন শেয়ার বাজারে ‘টাকার বৃষ্টি’! হু-হু করে চড়ছে সেখানকার তেল সংস্থাগুলির স্টকের দর। সোমবার, ৫ জানুয়ারি ওয়াল স্ট্রিট খোলার আগেই ১০ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয় তাদের শেয়ারের দাম। আগামী কয়েক দিন এই প্রবণতা বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে মোটা মুনাফা হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল সংস্থাগুলির লগ্নিকারীদের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে।
এ দিন বাজার খোলার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সাত শতাংশ বৃদ্ধি পায় শেভরন কর্পোরেশনের শেয়ারের দাম। অন্যান্য জ্বালানি সংস্থাগুলির মধ্যে কনোকফিলিপ্সের স্টকের দর বেড়েছে প্রায় ছ’শতাংশ। এ ছাড়া ভ্যালেরো এনার্জি কর্পোরেশন এবং এক্সন মোবিল কর্পোরেশনের শেয়ারের দাম প্রায় আট এবং চার শতাংশের আশপাশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সমস্ত তেল সংস্থাগুলির স্টকের সূচক রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী এবং তাদের মধ্যে ‘ষাঁড়ের দৌড়’ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আমেরিকার তেল সংস্থাগুলির মধ্যে ফিলিপ্স ৬৬, অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম, ইওজি রিসোর্সেস এবং ডেভন এনার্জির লগ্নিকারীরাও যে বাম্পার রিটার্ন পেতে চলেছেন, তা একরকম স্পষ্ট। এই কোম্পানিগুলির স্টকের দর যথাক্রমে ৪.৯২ শতাংশ, ২.১২ শতাংশ, ২.১৫ শতাংশ এবং ৩.৩৯ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শেয়ার সূচকের এ-হেন দৌড়ের নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণাকেই দায়ী করেছে ওয়াল স্ট্রিটের তাবড় ব্রোকারেজ ফার্ম।
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ভেনেজ়ুয়েলা আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজ। ওই দিনই স্থানীয় সময় রাত ২টো নাগাদ রাজধানী কারাকাসে ঢুকে সস্ত্রীক প্রেসি়ডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করে নিউ ইয়র্ক নিয়ে আসে আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স। এর পরই ট্রাম্প জানিয়ে দেন যে খনিজ তেল সমৃদ্ধ ল্যাটিন (পড়ুন দক্ষিণ) আমেরিকার ওই দেশটিকে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
শুধু তা-ই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন ভেনেজ়ুয়েলার ‘তরল সোনা’ উত্তোলনের পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে বিপুল অর্থ সেখানে লগ্নি করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তেল সংস্থা। তাঁর এই ঘোষণার জেরেই জ্বালানি কোম্পানিগুলির স্টকের দর বিদ্যুৎগতিতে উপরের দিকে ছুটতে শুরু করেছে, বলছেন বিশ্লেষকেরা।
সংবাদসংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে আমেরিকার তেল সংস্থাগুলির মধ্যে একমাত্র শেভরন কর্পোরেশনেরই ভেনেজ়ুয়েলায় বিনিয়োগ রয়েছে। সেখানকার তৈলভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভাবে হাতে চলে এলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জ্বালানি সংস্থাগুলিকে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাতে বিপুল লাভের সম্ভাবনা থাকায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বাজার, বলছে একাধিক ব্রোকারেজ ফার্ম।