বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর বদলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন গভর্নর করা হয়েছে মহম্মদ মোস্তাকুর রহমানকে। বাংলাদেশ ব্যাঙ্কে গত কয়েক দিন ধরে মনসুরের বিরুদ্ধে কর্মীবিক্ষোভ চলছিল। তাঁর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছিল তাঁর পদত্যাগ। এর মধ্যেই বুধবার বিএনপি সরকার তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনা ইস্তফা দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট ক্ষমতা নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তারাই ওই বছরের ১৫ অগস্ট বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর করে মনসুরকে। ওই পদে তাঁর মেয়াদ এখনও বাকি ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার ন’দিনের মাথায় মনসুরকে সরিয়ে দেওয়া হল। এ প্রসঙ্গে বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘নতুন সরকারের কিছু অগ্রাধিকার রয়েছে, চিন্তাভাবনা রয়েছে। সেগুলি বাস্তবায়নের জন্য যেখানে যেখানে প্রয়োজন, পরিবর্তন করা হবে। প্রয়োজনে আরও অনেক জায়গায় রদবদল হবে। এটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা।’’
আরও পড়ুন:
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ইউনূস নিযুক্ত একাধিক আধিকারিককে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সেখানে আনা হয়েছে। আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে। এই তাজুলই ট্রাইবুনালে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রথম সওয়াল করেছিলেন।
গভর্নর পদে থাকাকালীন মনসুরের একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ, কর্মীদের কথা না-শুনে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন তিনি। তিনি পদ থেকে না-সরলে আগামী দিনে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের কর্মীরা। বিতর্কের মধ্যে বুধবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন মনসুর নিজে। তখনও তাঁর সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। বরং ‘কুচক্রী মহল’-এর ষড়যন্ত্রের দিকে আঙুল তুলেছিলেন তিনি। তবে এর পরেই তিনি ব্যাঙ্ক ছেড়ে বেরিয়ে যান। তাঁর উপদেষ্টাকে ঘাড় ধরে বার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তার পর প্রকাশ্যে আসে সরকারের সিদ্ধান্ত।