ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল। প্রায় তিন মাস পরে পুলিশ সুপার পেল পূর্ব মেদিনীপুর। পাশাপাশি, নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল কোচবিহারে ‘স্যান্ডো গেঞ্জি’ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া সেই দ্যুতিমান ভট্টাচার্যকেও।
গত ২৭ নভেম্বর রাজ্য পুলিশে রদবদল করা হয়েছিল। বদল করা হয়েছিল ১০ পুলিশ সুপারকে। এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। তাঁকে বাঁকুড়ার এসপি করে পাঠানো হয়। তখন থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদটি খালি ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মিতুন দে-কে পূর্ব মেদিনীপুরে পাঠানো হয়েছিল অ্যাডিশনাল এসপি হিসাবে। এত দিন তিনিই ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কাজ করছিলেন। এ বার ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি করে পাঠানো হল পারিজাত বিশ্বাসকে। তিনি এত দিন পুরুলিয়ার ১১ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। মিতুনকে বদলি করে খড়্গপুরে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কোচবিহারের এসপি ছিলেন দ্যুতিমান। কিন্তু কালীপুজোর রাতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে রাতে স্যান্ডো গেঞ্জি পরে বেরিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাত পর্যন্ত শব্দবাজি ফাটানো হচ্ছিল ওই এলাকায়। সেই কারণেই বিরক্ত হয়ে বাংলো থেকে বেরিয়ে আসেন খোদ এসপি। যদিও মারধরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে ওই অভিযোগের পরেই তাঁকে কোচবিহার থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নবান্ন। পাঠানো হয়েছিল ৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট হিসাবে। এ বার তাঁকে ব্যারাকপুরের ডিসি (দক্ষিণ) করা হয়েছে।
রাজ্য পুলিশে মোট ২৩টি রদবদলের বিজ্ঞপ্তি বুধবার জারি করা হয়েছে। হাওড়ার ডিসি (ট্রাফিক) থেকে অসীম খানকে সরিয়ে পাঠানো হয়েছে ব্যারাকপুরের ডিসি (উত্তর) করে। ব্যারাকপুরের ডিসি (উত্তর) থেকে গণেশ বিশ্বাসকে পাঠানো হয়েছে হাওড়ার ডিসি (দক্ষিণ) করে। হাওড়ার ডিসি (দক্ষিণ) থেকে সুরিন্দর সিংহকে তিন নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার করে পাঠানো হয়েছে। অনুপম সিংহ ব্যারাকপুরের ডিসি (দক্ষিণ) ছিলেন। তাঁকে হাওড়ার ডিসি (ট্রাফিক) করা হয়েছে। ব্যারাকপুরের ডিসি (এসবি) ছিলেন জয় টুডু। তিনি হোম গার্ড অর্গানাইজ়েশনের সিনিয়র স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই পদে এত দিন ছিলেন পাপিয়া সুলতানা। তাঁকে ব্যারাকপুরের ডিসি (এসবি) করা হয়েছে।
দার্জিলিঙের গোর্খা ব্যাটেলিয়নের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে অংশুমান সাহাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) ছিলেন মনোরঞ্জন ঘোষ। তাঁকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যাডিশনাল ডিসি করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) করে পাঠানো হয়েছে আসানসোল দুর্গাপুরের দায়িত্বে থাকা সুব্রত দেবকে। কোচবিহারের অ্যাডিশনাল এসপি হলেন কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায়। রানাঘাটের অ্যাডিশনাল এসপি হলেন কৃষ্ণগোপাল মীনা। মুর্শিদাবাদের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) করা হয়েছে সুমন্ত কবিরাজকে। এ ছাড়া, নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জলপাইগুড়ি (গ্রামীণ)-এর অ্যাডিশনাল এসপি উত্তম ঘোষ, কৃষ্ণনগরের (গ্রামীণ) অ্যাডিশনাল এসপি সুরজিৎ কুমার দে, রায়গঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি সমীর আহমেদ, পূর্ব বর্ধমানের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) লাল্টু হালদার, খড়্গপুরের অ্যাডিশনাল এসআরপি মিতুনকুমার দে, বনগাঁর এসডিপিও অভিষেক যাদব এবং পূর্ব বর্ধমানের এসডিপিও (কালনা) দেশমুখ রোশন প্রদীপ।