Advertisement
E-Paper

রাঁচী যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ যুবক, পুরুলিয়াতেই অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধারে ঘনাল রহস‍্য

দিন দশেক আগে হুড়া থানা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এক ব্যক্তির পচা গলা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল দেহটি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০০:১৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রায় এক মাস আগে বাড়ি থেকে ভিন্‌রাজ্যে কর্মস্থলে যাওয়ার নাম করে বেরিয়েছিলেন এক যুবক। তার পর কিছু দিন ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও, গত ৭ মের পর থেকে তাঁর আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি পুরুলিয়ার আদ্রা থানা এলাকার। অন্য দিকে, ১০ দিন আগে হুড়া থানা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এক ব্যক্তির পচাগলা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিচয় এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার আদ্রা থানা এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মাহাতো ওরফে মিলন গত ২৮ এপ্রিল রাঁচী যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বার হন। তার পর কয়েকটা দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও ৭ মে-র পর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ যুবকের বাবা আদ্রা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। বিশ্বজিতের এক সন্তান রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা। নিখোঁজ যুবকের সম্পর্কিত এক দাদা অভিষেক মাহাতো বলেন, “ভাইয়ের সঙ্গে ওর স্ত্রীর শেষ কথা হয় ২০ দিন আগে। তার পর থেকে আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফোন বন্ধ। পরিবারের সদস্যেরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।” নিখোঁজ যুবকের দাদা আরও বলেন, “আমাদের কাছে আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় হল দু’দিন ধরে অচেনা লোকজন বাড়িতে আসছেন এবং তাঁরা দাবি করছেন যে বিশ্বজিতের কাছে তাঁরা টাকা পান।”

অন্য দিকে, দিন দশেক আগে হুড়া থানা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এক ব্যক্তির পচা গলা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল দেহটি। তাঁর পরিচয় এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি আধার কার্ড পাওয়া গিয়েছে যেটি ওড়িশার এক ব্যক্তির। তাঁর খোঁজ খবর শুরু করেছে পুলিশ। বিশ্বজিৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর সঙ্গেও একটি গামছা ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।

অন‍্য দিকে, নিখোঁজ যুবকের পরিচিত এক জনের ফোনে টাকার বিনিময়ে নিখোঁজের সন্ধান দেওয়ার নাম করে লালবাজারের নাম করে কেউ মেসেজ পাঠান। পরে তাঁরা পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে জানতে পারেন ওই ফোন নম্বর লালবাজারের কোনও আধিকারিকের নয়। পরিবারের সদস্যেরা জানতে পেরেছেন, নিখোঁজ যুবকের সঙ্গে ওড়িশার এক মহিলার সম্পর্ক ছিল। হায়দরাবাদে তাঁরা একসঙ্গে হোটেলে কাজ করতেন। নিখোঁজ যুবকের মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার আগে মেয়েটিকে ফোনও করেছিলেন বলে জানতে পেরেছেন বিশ্বজিতের আত্মীয়েরা।

এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জর্জ অ্যালেন জন বলেন, “একটি পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।” গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

purulia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy