Advertisement
E-Paper

জমির কাগজ থেকে পরিবারের সকলের খুঁটিনাটি, ১১ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে অন্নপূর্ণা যোজনায়! কী কী নথি লাগবে

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরকার সংগ্রহ করছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০০:৫৬
(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। ১১ পাতার সেই ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলবে। তবেই মাসে তিন হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবেন মহিলারা।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে ওই ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন মাধ্যমে ফর্মটি পূরণ করা যাবে। যাঁরা তা করতে পারবেন না, তাঁদের সহায়তার জন্য সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এমনকি, বিধায়কদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরকার সংগ্রহ করছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, সেই কারণে ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যেও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

১১ পাতার যে ফর্মটি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে প্রথমেই আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে। এর পর পরিবারের বাকি সদস্যদের এই সমস্ত তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা থাকতে হবে।

আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে লিখতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্য বিশদে উল্লেখ করতে হবে। ফর্মের তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, তা-ও জানাতে হবে।

আবেদনকারী ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারি কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে তা জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, পরিবারের সকল সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া, পরিবারের প্রত্যেকের পেশা ফর্মে লিখতে হবে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে।

পরিবারের প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য এই ফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে সরকার। তাই শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত নথি বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। জানাতে হবে পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ। এ ছাড়া, কেউ সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআর-এ নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এই ফর্মে জানতে চেয়েছে সরকার। চাওয়া হয়েছে পরিবারের সকল শিশুর স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের তথ্যও।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে তিন মাস পর্যন্ত ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া চলবে। তাই তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। অনেকেই মনে করছেন, যে সমস্ত তথ্য এই ফর্মে চাওয়া হয়েছে, তাতে সকলে নির্বিঘ্নে নিজে থেকে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না। অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন। সে ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি সরকারি কর্মচারীদের সহায়তা প্রয়োজন হবে।

Annapurna Yojana West Bengal government BJP Suvendu Adhikari
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy