পৃথক তিনটি ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযোগের তালিকায় আছে রাজনৈতিক হিংসা, শ্লীলতাহানি, মারধর ও লুটপাট। বুধবার ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক বিভিন্ন মামলার অভিযুক্তদের পুলিশ ও বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন।
২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বুধবার ভোরে বাড়ি থেকে তাপস মালাকার নামে এক তৃণমূল সমর্থককে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। বর্ধমান শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন কলোনি এলাকায় ধৃতের বাড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২১ সালের ২৯ মার্চ তাপস-সহ বেশ কয়েক জন তৃণমূল কর্মী নতুন কলোনির এক বাসিন্দার বাড়িতে হামলা চালিয়ে এক মহিলাকে মারধর করে তাঁর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর পরিবারের দাবি, তাঁদের পরিবারের মহিলাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময়ে বাধা দিতে গেলে অন্য সদস্যদের মারধর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গেবাড়ির দরজা-জানালা, টিনের চালা, দু’টি মোটরবাইক ও ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও আসবাবপত্র লুট করারও অভিযোগ রয়েছে। একই দিনে আক্রান্ত পরিবারের এক প্রতিবেশীর বাড়ি ও রথতলা এলাকার একটি হোটেলেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে থানায় পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তাপসকে গ্রেফতার করে। বুধবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশের তরফে আবেদন জানানো হয়, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের। তবে আদালত তিন দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, বিজেপি কর্মীকে মারধরের ঘটনায় মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমীরকুমার ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। হরিরামপুর এলাকায় ওই অভিযুক্তের বাড়ি। অভিযোগ, হরিরামপুরের বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী পতিতপাবন ঘোষ মঙ্গলবার দুপুরে গরু চরাতে গিয়ে গ্রামের আদিবাসীপাড়ার অশ্বত্থতলায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় সমীর ওই ব্যক্তিকে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় পতিতকে প্রথমে মেমারি হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরে আহতের কাকা রঞ্জন ঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শুক্রবার ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন বিচারক।
বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ। ধৃতদের নাম গৌতম বাউরি ও হারাধন ভাণ্ডারি। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বাড়ি আউশগ্রাম থানার অমরপুর এলাকায়। অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি সমর্থক মহাদেব দাসের বাড়িতে তাঁরা হামলা চালায়। রড, বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলাকারীরা বাড়িতে চড়াও হয়ে দরজা, জানালা, আলমারি, জলের ট্যাঙ্ক ও পাইপ লাইন ভাঙচুর করেন। বাড়িতে থাকা সোনার- রুপোর গয়না ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা লুট করা হয় বলেও অভিযোগ। মহাদেবের পরিবারের দাবি, গৌতম ও হারাধন হুমকি ও গালিগালাজ দেন। আতঙ্কে তাঁর পরিবারের সদস্যেরা অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পরে মঙ্গলবার মহাদেবের স্ত্রী শর্মিলা দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরেই তদন্তে নেমে বুধবার ভোররাতে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বুধবার আদালতে তোলা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শুক্রবার ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন বিচারক।