রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পরে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার নাম বদলের দাবি উঠতে শুরু করেছে। ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল অবিভক্ত বর্ধমান জেলা ভাগ করা হয়। নতুন জেলা হিসাবে যাত্রা শুরু করে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান। এ বার, বর্ধমান বাদ দিয়ে, আসানসোল ও দুর্গাপুরের নামে পশ্চিম বর্ধমান জেলার নাম রাখার দাবি তুলেছে নানা পক্ষ। সম্প্রতি দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক বিধায়ক প্রসঙ্গটি তোলেন বলে সূত্রের দাবি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্রের নেতৃত্বে প্রশাসনিক সংস্কার কমিটি প্রথম বর্ধমান জেলা ভাগের সুপারিশ করে। সিপিএম তাতে আপত্তি তুলেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে, সাবেক বর্ধমান জেলা ভাগে উদ্যোগী হন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা পুলিশ থেকে আলাদা করে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট গড়া হয়। আসানসোল পৃথক স্বাস্থ্যজেলা হিসাবেও ঘোষিত হয়। জেলা পরিষদের আসানসোল অফিস ঢেলে সাজা হয়। তৃণমূল, কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলিও জেলার সংগঠন ভাগ করে নেয়। ২০১২ সালে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৎকালীন জেলাশাসক ওঙ্কার সিংহ মিনা জেলা ভাগের বিষয়ে বৈঠক করেন। সেখানে নতুন জেলার ভৌগোলিক সীমানা প্রাথমিক ঠিক করে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে রাজ্যের ২৩তম জেলা হিসাবে যাত্রা শুরু করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা।
নতুন জেলার কী নাম হবে, তা নিয়ে প্রথম থেকেই চর্চা চলছিল। জেলার নামের সঙ্গে দু’টি মহকুমা, আসানসোল ও দুর্গাপুরের নাম জুড়ে দেওয়ার দাবি ওঠে। নতুন জেলা ঘোষণার আগের দিন জেলার নামে ‘আসানসোল’ না রাখার প্রতিবাদে আসানসোলে কংগ্রেসের বিক্ষোভে অশান্তিও হয়। কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’টি জেলার নামেই বর্ধমান শব্দটি রাখেন।
তৃণমূলের সরকার ক্ষমতা হারানোর পরে, এ বার ফের বিষয়টি নিয়ে সরব হতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ় অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রতন আগরওয়াল বলেন, ‘‘জেলার নামে আসানসোল ও দুর্গাপুরের নাম বাদ দিয়ে বর্ধমান থাকার প্রয়োজন নেই বলে আমরা প্রথম থেকে মনে করি। রাজ্য সরকার যদি নাম বদলে দেয়, আমরা খুশি হব।’’ দুর্গাপুর মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তাপস সরকারের বক্তব্য, ‘‘দুর্গাপুরবাসী হিসাবে জেলার নামে দুর্গাপুর থাকলে সেটা আমাদের জন্য গৌরবের।’’
দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “সম্প্রতি দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার নাম বদলের প্রস্তাব তুলেছি। পশ্চিম বর্ধমানের জায়গায় জেলার নাম আসানসোল-দুর্গাপুর করা হোক।’’ পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও জেলার নাম বদলের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন।
তৃণমূলের অন্যতম জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, ‘‘সে সময়ে দুর্গাপুরে অরাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছিল, জেলার নামের সঙ্গে দুর্গাপুর শব্দ রাখার দাবিতে। তবে নতুন জেলা ঘোষণার পরে পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় ৯ বছর। এখন নতুন করে নাম বদলের কথা তুলে মানুষের নজর আসল সমস্যা থেকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটা ভেবে দেখা দরকার।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)