Advertisement
E-Paper

১ এপ্রিল থেকে পেট্রলে বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ ইথানল, আরওএন ৯৫! কী কারণে পদক্ষেপ, জানাল কেন্দ্র

আখ, ভুট্টা বা অন্য শস্য থেকে ইথানল তৈরি করা হয়। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য, দেশীয় ভাবে উৎপাদিত এবং বিশুদ্ধ পেট্রলের চেয়ে কম দূষণের জ্বালানি বলে দাবি নরেন্দ্র মোদী সরকারের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ন্যূনতম ‘রিসার্চ অক্টেন নম্বর (আরওএন) ৯৫’-সহ পেট্রল বিক্রি বাধ্যতামূলক করেছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘তেল সংস্থাগুলিকে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড’-এর নির্দিষ্ট মাত্রা মেনে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল-মিশ্রিত মোটর স্পিরিট (পেট্রল) বিক্রি করবে এবং এতে ন্যূনতম আরওএন ৯৫ থাকবে।’’

কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য এবং সীমিত সময়ের জন্য এ ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের অনুমতি দিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। আখ, ভুট্টা বা অন্য শস্য থেকে ইথানল তৈরি করা হয়। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য, দেশীয় ভাবে উৎপাদিত এবং বিশুদ্ধ পেট্রলের চেয়ে কম দূষণের জ্বালানি বলে দাবি নরেন্দ্র মোদী সরকারের। কেন্দ্র তেল আমদানি কমানোর পাশাপাশি দূষণ কমাতে পেট্রলের মধ্যে ইথানল মিশ্রণ বাধ্যতামূলক করেছে বলে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ কৃষকদের সহায়তা করে। কারণ, এটি আখ, ভুট্টা এবং কৃষি উদ্বৃত্তের চাহিদা বাড়ায়।

ন্যূনতম আরওএন৯৫-এর উপর জোর দেওয়া হল ইঞ্জিনের ক্ষতি রোধ করা। রিসার্চ অক্টেন নম্বর (আরওএন) হল ইঞ্জিনের নকিং (প্রাক-জ্বলন)-এর সময় জ্বালানির প্রতিরোধের একটি পরিমাপ। নকিং তখন হয় যখন ইঞ্জিনের ভিতরে জ্বালানি অসম ভাবে পুড়ে যায়, যার ফলে অতিরিক্ত শব্দ হয়, শক্তি হ্রাস পায় এবং সময়ের সঙ্গে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। আরওএন যত বেশি হবে, জ্বালানি তত বেশি ‘নকিং’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হবে। সহজ কথায়, অক্টেন হল জ্বালানির ‘চাপের মধ্যে স্ব-নিয়ন্ত্রণ’। উচ্চ আরওএন-এর অর্থ হল উচ্চ সংকোচনের অধীনে জ্বালানি স্থিতিশীল থাকে। ইথানলের স্বাভাবিক ভাবে উচ্চ অক্টেন মান প্রায় ১০৮। পেট্রোলের মধ্যে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত করলে নকিং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

দূষণ ও তেলের আমদানি খরচ কমাতে আমেরিকা, ব্রাজ়িল-সহ বিভিন্ন দেশের মতো ভারতও পেট্রলে ইথানলের ভাগ বৃদ্ধির পথে হাঁটতে শুরু করেছে ২০২২ থেকে। এ বার তা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রকের দাবি, ৬০ লক্ষ টনেরও বেশি উদ্বৃত্ত চিনি ইথানল তৈরিতে লাগবে। ফলে চিনির দাম পড়ার আশঙ্কা কমবে। ১.৬৫ কোটি টন শস্য ব্যবহৃত হওয়ায় উপকৃত হবেন চাষিরা। পাশাপাশি ৪০,০০০ কোটি টাকার লগ্নি ও বিপুল কাজের সুযোগ খুলবে। বছরে তেল আমদানি খাতে খরচ কমবে প্রায় ৫০০০০ কোটি টাকার। ২০২৬-২৭ সালে পুরোদস্তুর ই-২০ আনতে বছরে যে ১০০০ কোটি লিটারেরও বেশি ইথানল লাগবে, তার অর্ধেকের সূত্র হবে আখ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তেল আমদানির খরচ কমলেও ক্রেতা সেই ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির জন্য কেন পেট্রলের চড়া দাম গুনবেন? কেন তেলের দাম কমবে না? এর কোনও জবাব মেলেনি কেন্দ্রের তরফে। এখন পেট্রলের সঙ্গে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানো তেল চালু গাড়িতে ব্যবহার করা যায়। আগামী ১ এপ্রিলের দিকে লক্ষ্য রেখে আগেই ই-২০ জ্বালানির জন্য উপযুক্ত যন্ত্রাংশের নতুন গাড়ি তৈরি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সব নতুন গাড়ির ইঞ্জিনই হবে ই-২০ব্যবহারের যোগ্য।

Ministry of Petroleum Ministry of Petroleum and Natural Gas Ethanol Petrol
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy