• নিজস্ব সংবাদদাতা 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নজর বৈদ্যুতিক গাড়িতে, তবু বাড়বে পেট্রল পাম্প

Representative Image
প্রতীকী ছবি।

সারা দেশে পেট্রল পাম্পের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম। এই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে নতুন প্রায় আড়াই হাজার পাম্প চালু করা হবে। নিয়োগ করা হবে ডিলার। রবিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির স্টেট লেভেল কোঅর্ডিনেটর তথা ইন্ডিয়ান অয়েলের এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর দীপঙ্কর রায়। 

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এই প্রথম তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যৌথ ভাবে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ার জন্য উদ্যোগী হল। এর জন্য বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে নিয়োগ পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে একই সঙ্গে। এর আগে সংস্থাগুলি পৃথক ভাবে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাত। রাজ্যের আড়াই হাজার পাম্প আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে চালু হবে বলে জানিয়েছে তারা। 

ঘটনা হল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জ্বালানি সিএনজির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলছে কেন্দ্র। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পাশাপাশি, বেসরকারি তেল সংস্থাগুলিও ভারতে পেট্রল পাম্প চালু করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগ্রহী সংস্থার তালিকায় রয়েছে রিলায়্যান্স, বিপি, রোজনেফ্ট। এমনকি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের মতো সংস্থাও অতীতে এই সংক্রান্ত অনুমতি চেয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারের দাবি কি সত্যিই পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? বিশেষ করে যখন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিই আরও বেশি পাম্প চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে? 

জ্বালানির চাহিদা 
• দেশে বছরে পেট্রলের চাহিদা বাড়ছে ৮%। ডিজেলের ৪%। 
• পশ্চিমবঙ্গে চার বছরে পেট্রলের চাহিদা ৪৫.৯% বেড়েছে। ডিজেলের বেড়েছে ৩১.৯%। 
• রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির অনুমান, আগামী চার বছরে দেশে এই চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে। 
• পেট্রল পাম্পের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা। 
• পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে নতুন আড়াই হাজার পাম্প। আগামী তিন-চার বছরেই। 
• ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া যৌথ ভাবে চালাবে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা। 
• হবে নতুন কর্মসংস্থান।

দীপঙ্করবাবুর মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার ব্যাপক ভাবে চালু করার ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে। ব্যাটারি চার্জ করানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, বর্ধমান শহরে দু’তিনটি সিএনজি স্টেশন রয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে আরও ৮০টি স্টেশন তৈরির। কিন্তু তার জন্য সাত বছর সময় লাগবে।

দীপঙ্করবাবুর বক্তব্য, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়লেও আগামী কয়েক বছরে পেট্রল-ডিজেলের ব্যবহার বাড়বে। এই অবস্থায় পাম্পগুলিকে গ্রাহকদের আরও কাছে নিয়ে গিয়ে বর্ধিত চাহিদার মেটানোর চেষ্টা করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি। এর ফলে বাড়বে কর্মসংস্থানও। পাশাপাশি বিভিন্ন পাম্পে সিএনজি লাইন ও ব্যাটারি চার্জিংয়ের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে তাঁদের। 

পাম্পের সংখ্যা বাড়লেও, বর্তমানে যে সমস্ত ডিলার রয়েছেন তাঁদের আয়ে কোপ পড়বে না  বলে জানাচ্ছেন দীপঙ্করবাবু। তাঁর ব্যাখ্যা, দেশে বছরে পেট্রলের চাহিদা গড়ে ৮% এবং ডিজেলের চাহিদা ৪% করে বাড়ছে। গত চার বছরে পশ্চিমবঙ্গেই পেট্রলের চাহিদা ৪৫.৯% বেড়েছে। ডিজেলের বেড়েছে ৩১.৯%।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন