ব্যবসার মুনাফায় মন্দা। তথ্যভাণ্ডারের সুরক্ষা নিয়ে কাঠগড়ায়। মাথার উপর ঝুলছে জরিমানার খাঁড়া। এই অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে এ বার আর্থিক বাজারে নামতে চাইছে ফেসবুক। এবার নিজস্ব ‘ডিজিটাল মুদ্রা’ তৈরি করছে ফেসবুক। শুধু তৈরিই নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্রিপ্টোকারেন্সি ছাড়ার জন্য ইতিমধ্যেই আঁটঘাট বেঁধে নেমে পড়েছে মার্ক জাকারবার্গ। ‘লিব্রা’ নামে এই ডিজিটাল ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে আসতে পারে আগামী বছরের মধ্যেই।

সংস্থার তরফে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও আমেরিকা এবং ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই বাদ সেধেছে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে একগুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছেন জাকারবার্গের কাছে। কিন্তু সে সব কাটিয়ে সত্যি সত্যি লিব্রা বাজারে এলে সারা বিশ্বের ব্যাঙ্কিং এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিতই নাড়িয়ে দিতে পারে।

কেন প্রশ্নচিহ্ন? সে প্রশ্নে আসার আগে ক্রিপ্টোকারেন্সি কী, সে বিষয়ে একটু বুঝে নেওয়া যাক। ক্রিপ্টোকারেন্সি আসলে ডিজিটাল মুদ্রা, যার বাস্তব কোনও অস্তিত্ব নেই। তবে টাকার মতোই লেনদেন করা যায়। যেমন কোনও জিনিস কিনে বিক্রেতা যদি নিতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে টাকা মেটানো যায়। পেটিএম, ফোন পে, গুগল পে-র মতো অ্যাপ বেসড মানি ট্রান্সফার সিস্টেম, যার সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে সংযোগ করতে হয়। তার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনে ওয়ালেটে রাখতে হয়। সেটা যেমন লেনদেন করা যেতে পারে, তেমনই শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিনিয়োগও করা যেতে পারে। অর্থাৎ যে দামে কিনবেন, দাম বাড়লে তা বিক্রিও করে দিতে পারেন। এই ক্রিপ্টোকারেন্সি কাজ করে ব্লকচেন প্রযুক্তিতে, যা অত্যন্ত সুরক্ষিত ও নিরাপদ। জালিয়াতির সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ফলে গ্রাহকদের দিক থেকেও নিরাপদ।

আরও পড়ুন: অর্থনীতির অসুখে বৈদ্য সেই নরেন্দ্র

লিব্রা বাজারে এলে সারা বিশ্বের ব্যাঙ্কিং এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিতই নাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশ্বের প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সি ‘বিটকয়েন’ চালু হয় বছর দশেক আগে। বর্তমানে অবশ্য ডিজিটাল দুনিয়ায় বিটকয়েন, লাইটকয়েন, ইথারিয়াম,রিপল-এর মতো প্রচুর ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে। তবে ভারতে ঘুরপথে সেগুলি নিষিদ্ধ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া বছরখানেক আগে একটি সার্কুলারে জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত লেনদেন করতে পারবে না। অর্থাৎ কোনও গ্রাহক ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য টাকার লেনদেন করতে পারবে না। ফলে তার পর থেকেই ভারতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন। যদিও অন্যান্য বহু দেশে এ রকম ডিজিটাল মুদ্রা চালু রয়েছে। কয়েকটি দেশে সরকারি ভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

এ হেন ক্রিপ্টোকারেন্সিই এ বার ডিজিটাল দুনিয়ায় নিয়ে আসতে চাইছে ফেসবুক। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, সেই সমস্ত প্রান্তিক মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই নতুন পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করতে পারলে ফেসবুকের মন্থর গতির বৃদ্ধিতে অনেকটাই গতি আসবে। এই ক্রিপ্টোকারেন্সির হাত ধরেই বিপুল আয়ের রাস্তা খুলে ছাবে ফেসবুকের সামনে। কারণ সারা বিশ্বে প্রতি মাসে প্রায় ২৪০ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। সেই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের তথ্যভাণ্ডার হাতে রয়েছে ফেসবুকের। লিব্রার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে এই তথ্যভাণ্ডার কাজে লাগাতে পারবেন মার্ক জাকারবার্গ।

কিন্তু এই তথ্যভাণ্ডারের প্রশ্নেই ধাক্কা খেয়েছেন জাকারবার্গ। ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে তথ্যভাণ্ডারের অপব্যবহারের অভিযোগে এমনিতেই ব্রিটেন-আমেরিকার আতসকাচের নীচে রয়েছে ফেসবুক। মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে। ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়াও।

আরও পড়ুন: স্মার্ট ফোনেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এই বাইক, এক বার চার্জে চলবে ১৫০ কিমি, দাম...

সেই কারণেই জাকারবার্গের ঘোষণার পর পরই নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন কংগ্রেস। কংগ্রেসের হাউস ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক্সিন ওয়াটার্স এই পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বলেছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে মার্কিন কংগ্রেস ছাড়পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি চালুর উপর কার্যত নিষেধাজ্ঞাই জারি করে দিয়েছেন। কমিটির সামনে এসে ফেসবুকের কর্ণধারদের পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।তাঁদের সন্তুষ্ট করতে পারলে তবেই সবুজ সঙ্কেত মিলবে। এক বিবৃতিতে ওয়টার্স বলেছেন, হাজার হাজার কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে ফেসবুকের কাছে। বারবার সেই তথ্যভাণ্ডারের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার ক্রিপ্টোকারেন্সি চালুর ঘোষণা করে ফেসবুক আসলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়তে চাইছে।’’ এছাড়া ব্রিটেন-আমেরিকার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত শীর্ষ আধিকারিকরা ফেসবুকের এই ঘোষণায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এই চাপের মুখে লিব্রা নিয়েও যে সুরক্ষার প্রশ্ন উঠবে, তা আগেভাগেই আঁচ করেছেন ফেসবুকের নীতি নির্ধারকরা। তাই ‘লিব্রা’ যে সম্পূর্ণ আলাদা একটি উদ্যোগ এবং এর সঙ্গে যে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের (এই মেসেজিং অ্যাপ সংস্থারও মালিক মার্ক জাকারবার্গ) কোনও সম্পর্ক নেই সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন মার্ক জাকারবার্গ। সংস্থার ঘোষণায় বলা হয়েছে, ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির কোনও সংযোগ থাকবে না। ২০২০ সালের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে একটি সম্পূর্ণ আলাদা অ্যাপ। যার মাধ্যমে শুধুমাত্র ‘লিব্রা’র লেনদেনই করা যাবে। সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রা ছাড়াই এই লিব্রার মাধ্যমে জিনিসপত্র বা পরিষেবা কেনা-বেচার টাকা লেনদেন করা যাবে।

ফেসবুকের ব্যানারে এলেও ‘লিব্রা’র নিয়ন্ত্রণ এবং নীতি নির্ধারণ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং তার উপর ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না— এটাও বোঝাতে চেয়েছেন জাকারবার্গ। সংস্থার ঘোষণায় দাবি করা হয়েছে, ফেসবুক ক্রিপ্টোকারেন্সিটি তৈরি করলেও ‘লিব্রা’র পুরো বিষয় দেখভালের জন্য তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ‘লিব্রা অ্যাসোসিয়েশন’। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ডজন খানেক অলাভজনক সংস্থা এবং বাণিজ্যিক সংস্থা। ফেসবুকের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়াতে প্রতিটি সংস্থা ন্যূনতম ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার দিয়ে সাহায্য করেছেন। যাতে প্রায় ১০০ কোটির মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারবে লিব্রা।

ব্লকচেন প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলি এমনিতেই সুরক্ষিত। তবু যে ফাঁকফোকরগুলি রয়েছে, সেগুলিও পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ফেসবুকের তরফে। সংস্থার ঘোষণায় বলা হয়েছে, লিব্রা একটি ‘উন্নততর, সস্তা এবং উন্মুক্ত আর্থিক পরিষেবা’। বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সুপার কম্পিউটার থাকলে যে কেউ এই কম্পিউটার অ্যালগোরিদম অ্যাকসেস করতে পারে। যদিও তাতে হ্যাক বা অন্য কোনও সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তাই এই সব ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি বা ওয়ালেট থেকে খোয়া যাওয়ার নজির প্রায় নেই বললেই চলে। তবু ফেসবুকের আশ্বাস, লিব্রার ক্ষেত্রে ‘ওপেন টু অল’ হবে না, বরং নির্দিষ্ট কিছু লোকের হাতের থাকবে নিয়ন্ত্রণ। পাশাপাশি কোনও গ্রাহকের ‘লিব্রা’ কোনও কারণে খোয়া গেলে তা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা।

বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম শেয়ার বাজারের চেয়েও দ্রুত ওঠানামা করে। কারণ বাজার বিশ্বজোড়া। লেনদেন চলে গোটা বিশ্বে। সাধারণ গ্রাহকের কাছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই ক্ষেত্রেও আশ্বাস দিয়েছেন, সারা বিশ্বের সম্পত্তির এমন মিশেল ঘটানো হয়েছে, যাতে এই অনিশ্চয়তা বা ওঠানামা ন্যূনতম থাকবে। প্রায় সাধারণ মুদ্রার মতোই। যদিও তাতে আশ্বস্ত না হওয়ার মতো যথেষ্ট শঙ্কা থেকেই যায়। কারণ অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রার মতোই লিব্রার বাজারও গোটা বিশ্বের কাছেই উন্মুক্ত।

প্রথাগত ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থায় কী প্রভাব ফেলতে পারে ফেসবুকের লিব্রা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষ এখন যে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের অ্যাপ বা পেমেন্ট বেসড অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন করে থাকেন, তার একটা বড় অংশ ঝুঁকে পড়তে পারেন লিব্রার দিকে। ফেসবুক যেমন নিত্য ব্যবহারের অ্যাপ হয়ে উঠেছে, লিব্রাও হয়ে উঠতে পারে তেমনই। তাছাড়া প্রোমোশন-বিজ্ঞাপনের জন্য ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবহার করতে পারবে। যে তথ্যভাণ্ডার ফেসবুকের কাছে রয়েছে, তা অন্য কোনও কয়েনের নেই। সেই সুবিধা নিয়ে কার্যত ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বাজারে ফেসবুকের একাধিপত্য কায়েম করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। যেমন ভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতেও কার্যত একচেটিয়া বাজার ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের। আর সেটা হলে শুধু নির্দিষ্ট কোনও দেশ নয়, গোটা বিশ্বের ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: কর আর সুদ ছেঁটেও কাজ তৈরির ভাবনা কেন্দ্রের

আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ অবশ্য বলছেন, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের মতো সাফল্য পাবে না লিব্রা।

কেন? সাধারণ মুদ্রার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ থাকে ব্যাঙ্কের হাতে এবং সেই ব্যাঙ্কগুলির নিয়ন্ত্রণ থাকে সংশ্লিষ্ট দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের হাতে। ভারতের ক্ষেত্রে যেমন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক এবং সর্বোপরি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার সুরক্ষার দায়িত্ব নেয়। সব দেশেই পেমেন্ট অ্যাপগুলির উপরেও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে শীর্ষ ব্যাঙ্কের। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। ডিজিটাল দুনিয়ায় এক উন্মুক্ত আর্থিক লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে নেই কোনও দেশের সীমারেখার গণ্ডি। ফলে তার উপর নিয়ন্ত্রণ করা কার্যত অসম্ভব। লিব্রাও তার ব্যতিক্রম নয়।

ফেসবুক একটি বেসরকারি লাভজনক সংস্থা। তার দায়বদ্ধতাও গ্রাহকের কাছে নামমাত্র। অথচ যে কোনও দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পায় গ্রাহকের আর্থিক সুরক্ষা। কিন্তু লিব্রা চালু হলে এবং ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের মতো ব্যবহার হলে, তা যে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা আঁচ করাই যায়। শুধুমাত্রা ব্যাঙ্কিং-আর্থিক ব্যবস্থাই নয়, গ্রাহকের ক্ষেত্রেও ডেকে আনতে পারে ভয়ায়ক বিপদ।

আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ অবশ্য বলছেন, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের মতো সাফল্য পাবে না লিব্রা। কারণ, দৈনন্দিন জীবনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেন না সাধারণ মানুষ। ভারতে যতদিন বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু ছিল, তখনও তা জনপ্রিয়তা পায়নি। বরং শেয়ার বাজারের মতো বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে নগন্য সংখ্যায় কিছু মানুষ বিটকয়েন কেনাবেচা করতেন। তা ছাড়া ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করলে বিক্রেতা সংস্থাগুলিকেও সেই ক্রিপ্টোকারেন্সি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। কিন্তু বিক্রেতা সংস্থা সেই ঝুঁকি নিতে চাইবেন কেন? কারণ, প্রতি মুহূর্তে যার দাম ওঠানামা করছে, সেটা নিলে ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যায়। অথচ স্থিতিশীল দেশীয় মুদ্রায় সেই সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

গ্রাহকদের কাছেও এই ঝুঁকির বিষয়টিই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। কারণ, ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময় মূল্যের মুহূর্মুহূ ওঠানামার অনিশ্চয়তার ঝুঁকি নিতে চাইবেন না গ্রাহক। বরং, বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে কিছু মানুষ এটাকে বেছে নিতে পারেন। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে কিছু মুনাফা করার উদ্দেশে। এখন দেখার এই ক্রিপ্টোকারেন্সি কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।