পশ্চিম এশিয়ার অশান্তিতে ফের ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিল পাকিস্তান। এ বার নিশানা করল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে। শনিবারই মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনীর হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাহবাজ়।
রবিবার বিকেলে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে শাহবাজ় লেখেন, “আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন পাকিস্তান। কোনও দেশের বা সরকারের প্রধানকে কখনও আক্রমণ করা উচিত নয়, এটিই প্রচলিত রীতি।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, “ইরানের সাধারণ জনতার এই দুঃখ এবং শোকের সময়ে পাকিস্তান তাঁদের পাশে রয়েছে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাই।” খামেনেইয়ের মৃত্যুকে ইরানবাসীর জন্য এক ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বলেও মনে করছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে সরাসরি কোনও দেশকে আক্রমণ করেননি শাহবাজ়। তবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েল এবং আমেরিকাই। ফলে নামোল্লেখ না করলেও আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে হামলার যে অভিযোগে যে আমেরিকা এবং ইজ়রায়লকেই নিশানা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী, তা স্পষ্ট। বস্তুত, শনিবার ওই হামলার পর পরই বিবৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান। সেই সময়েও ইরানের পাশেই দাঁড়িয়েছিল তারা। এ বার খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরে ফের আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ তুলে তেহরানকে সমর্থন জানালেন শাহবাজ়।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে রবিবার করাচিতে মার্কিন উপদূতাবাসের সামেন বিক্ষোভ দেখান কয়েক জন। ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তাঁরা। সেখানে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুলি চালায় পুলিশ। তাতে প্রাণ যায় ১০ জনের। ওই বিক্ষোভের পরে একটি বিবৃতি দিয়েছে ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসও। তাতে লেখা হয়েছে, ‘পাকিস্তানে মার্কিন নাগরিকদের পরামর্শ দিচ্ছি, স্থানীয় সংবাদে নজরে রাখুন। ব্যক্তিগত সুরক্ষার দিকেও নজর রাখুন, কারা চারপাশে রয়েছেন জানুন। ভিড় এড়িয়ে চলুন।’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!