ঢালাই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল পিগ আয়রনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে রাজ্যে। এই শিল্পের দুই সংগঠন আইএফএ এবং এফসিডিএ-র অভিযোগ, পিগ আয়রন নির্মাতারা রফতানিতে বেশি আগ্রহী। ফলে ঘরোয়া বাজারে কাঁচামালের অভাবের সঙ্গে তার দামও বেড়েছে। রাজ্যের ঢালাই শিল্পেথমকে গিয়েছে প্রায় ২০০০ কোটি টাকার লগ্নি। সমস্যা কাটাতে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছে তারা।
এফসিডিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় বেরিওয়াল বলেন, “লৌহ আকর, কয়লার দাম না বাড়লেও, পিগ আয়রন সংস্থাগুলি আমাদের পাঠানো পণ্যের দাম ১২%-১৫% বাড়িয়েছে। চড়েছে অন্যান্য কাঁচামালের দরও। সব মিলিয়ে ঢালাই শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। অথচ আগাম বরাত নেওয়ায় পণ্যের দাম বাড়াতে পারছি না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে জাহাজ ভাড়া, বিভিন্ন সারচার্জ ইত্যাদি বৃদ্ধির ফলে রফতানির বাজারও হারাচ্ছে এই শিল্প।” এফসিডিএ-র আর এক ভাইস চেয়ারম্যান সুনীল আগরওয়ালের বক্তব্য, ঢালাই শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ। ৩৫০টিরও বেশি কারখানায় প্রায় ৫০,০০০ কর্মী। লোকসানে পড়ে অনেকেই উৎপাদন কমিয়েছে। বেরিওয়ালের দাবি, বহু লগ্নিকারী রাজ্যে ঢালাই কারখানা গড়তে আগ্রহী। গত এক বছরে ১৫টির মতো কারখানা তৈরি হয়েছে। লগ্নি হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৩০০০। আগামী এক বছরে আরও ২০০০ কোটি লগ্নির সম্ভাবনা। কমপক্ষে ১০,০০০ কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু সেই লগ্নিই থমকে।
আইএফএ-র দুই ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কেজরীওয়াল এবং বিজয় কেডিয়াও জানাচ্ছেন, রফতানি বৃদ্ধি ভাল। তবে দেশীয় শিল্পকে বিপাকে ফেলে নয়। ঢালাই কারখানা ছোট-মাঝারি শ্রেণির। তাই সাহায্য দরকার। দেশে চাহিদা মিটিয়ে যেন রফতানি হয়, নিশ্চিত করা হোক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)