দেশের সরকারি বিমানসংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার ৭৬ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এই মূহূর্তে বাজারে এই বিমানসংস্থার ৫০ হাজার কোটি টাকা দেনা রয়েছে।
বুধবার বিমানমন্ত্রক সংস্থার ৭৬ শতাংশ শেয়ার কেনার আগ্রহপত্র চেয়েছে। বলা হয়েছে, শুধু ৭৬ শতাংশ শেয়ার বিক্রিই নয়, তার সঙ্গে বিমানসংস্থার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণও ছেড়ে দেবে কেন্দ্র। সংস্থার বর্তমান পরিচালন কমিটি, কর্মী, কর্মীদের তৈরি কনসরশিয়ামও এই শেয়ার কেনায় অংশ নিতে পারবে বলে কেন্দ্রের নির্দেশে বলা রয়েছে।
বুধবার দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এখনও বিষয়টি নিয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে আলোচনা চলছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে ইন্ডিয়ার নাম জড়িয়ে। এটা আমাদের দেশের সম্মান। দুম করে ৭৬ শতাংশ বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল!’’
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে কর্মীদের মধ্যেও। একাংশের অভিযোগ, ২০০৭ সালের অগস্টের আগে কেন্দ্র পরিচালিত এই বিমানসংস্থার দু’টি ভাগ ছিল। এক, বিদেশের উড়ানের জন্য এয়ার ইন্ডিয়া। দেশের অভ্যন্তরের জন্য ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স। কর্মীদের দাবি, তখন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের কয়েক হাজার কোটি টাকা মুনাফা হত। কিন্তু, ২০০৭ সালের অগস্ট মাসে দুই সংস্থাকে মিশিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া নাম দেওয়ার পরেই রক্ত ঝরতে শুরু করে। মাত্র চার বছরে দেনায় ও লোকসানে জর্জরিত হয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়া। কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দুই বেসরকারি বিমানসংস্থা জেট এবং কিংফিশারকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এয়ার ইন্ডিয়ার দুই সংস্থাকে ওই ভাবে মিলিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন ইউপিএ সরকার।