মোদী সরকারের আমলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহজে ব্যবসার পরিবেশের সূচকে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়েছে ভারত। যাকে নানা সময়ে প্রচারের হাতিয়ারও করেছে শাসক দল। কিন্তু এ বছর ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সূচকে ১০ ধাপ পিছিয়ে ৬৮তম স্থানে নামল দেশ।

অর্থনীতির আয়তন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রে ভাল জায়গায় থাকলেও খোলা বাজার, প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্ম দক্ষতা, কর্মী সুরক্ষার মতো সূচকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ভারত। এমনকি রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও আয়ুর ক্ষেত্রে ভারত রয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ বাদে অধিকাংশ দেশের পিছনে। কর্মীদের মধ্যে মহিলা ও পুরুষের অনুপাতেও (০.২৬) ১৪১টি দেশের মধ্যে ১২৮ নম্বরে ভারত। 

সামগ্রিক ভাবে ভারতের নম্বর আগের বছরের তুলনায় তেমন না কমলেও, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের নিরিখে প্রায় একই জায়গায় থাকা অন্যান্য অনেক দেশ ভারতের তুলনায় এগিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক, কলম্বিয়া। ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মধ্যে একমাত্র ব্রাজিল পিছিয়ে রয়েছে ভারতের তুলনায়। তবে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় ভারত এগিয়ে। 

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সূচক 

• উৎপাদন ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে ১৪১টি দেশের ক্রমতালিকা। 
• ১৯৭৯ সালে চালু করে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম। 
• ১২টি ক্ষেত্রের অধীনে ১০৩টি সূচক মেপে তৈরি হয় ক্রমতালিকা। 


কে কোথায় 

• আমেরিকাকে টপকে শুরুতে সিঙ্গাপুর। 
• শুল্ক-যুদ্ধের ফলেই এক ধাপ নামল আমেরিকা। 
• ভারত ১০ ধাপ নেমে ৬৮ নম্বরে। তবে শ্রীলঙ্কা (৮৪), বাংলাদেশ (১০৫), নেপাল (১০৮), পাকিস্তানের (১১০) 
চেয়ে এগিয়ে। 
• এগিয়ে অর্থনীতির মাপ, স্থিতিশীলতা, আর্থিক ক্ষেত্র, কর্পোরেট 
গভর্ন্যান্স, অপ্রচলিত শক্তি নীতি, উদ্ভাবনে। 
• স্বাস্থ্য, আয়ু, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ব্যবহার, খোলা বাজার, কর্মী সুরক্ষা, কর্ম দক্ষতার মতো সূচকে পিছিয়ে। 

ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের এগ্‌জ়িকিউটিভ চেয়ারম্যান ক্লস শোয়াব জানান, যে সব দেশ আর্থিক নীতিতে পরিকাঠামো, দক্ষতা, গবেষণা ও পিছিয়ে থাকা মানুষদের সামনের সারিতে নিয়ে আসায় গুরুত্ব দিয়েছে তারাই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে বলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের নানা অঞ্চলের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে এগিয়ে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শুল্ক-যুদ্ধের ফলে এক ধাপ পিছিয়ে পড়েছে আমেরিকা। পয়লা নম্বরে সিঙ্গাপুর। তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে হংকং, নেদারল্যান্ডস ও সুইৎজারল্যান্ড। চিন ২৮তম স্থানে।