চাহিদা কমার জেরে বহু দিনই ঝিমিয়ে অর্থনীতি। গত ছ’বছরের বিচারে তলানি ছুঁয়েছে বৃদ্ধি। তবে সঙ্কট মানতে নারাজ কেন্দ্র। এই অবস্থায় শুক্রবার অর্থনীতিতে আছড়ে পড়ল জোড়া উল্কা।

এক দিকে, আর্থিক সঙ্কটের মেঘ কতটা ঘনিয়েছে সেটা ফের স্পষ্ট করে সরকারি পরিসংখ্যান জানাল, চলতি বছর অগস্টে শিল্পোৎপাদন গত বছর অগস্টের তুলনায় ১.১ % কম হয়েছে।  যা সাত বছরে সবচেয়ে খারাপ। অন্য দিকে, গাড়ি শিল্পের সংগঠন সিয়ামের হিসেব, গত বছর সেপ্টেম্বরের তুলনায় এই সেপ্টেম্বরে ফের কমেছে যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি। এই নিয়ে টানা ১১ মাস। বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি কমেছে এক দশকে সর্বাধিক, ৩৯.০৬%। দু’চাকায় ধাক্কা দু’দশকে সর্বোচ্চ, ২৩.২৯%। 

উদ্বেগ বাড়িয়েছে গত পাঁচ বছরের বিচারে কল-কারখানায় উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) মুখ থুবড়ে পড়া। লগ্নির ভাটা প্রকট করে সঙ্কোচনের পরিমাণ ১.২%। অথচ কর্মসংস্থান বাড়াতে এই ক্ষেত্রের বৃদ্ধিকেই জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা। আবার চাহিদার খরা আরও স্পষ্ট করে ৯.১% কমেছে দীর্ঘমেয়াদি ভোগ্যপণ্যের উৎপাদনও। সরাসরি কমেছে বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো ও নির্মাণ পণ্যের উৎপাদন। খননে বৃদ্ধি মাত্র ০.১%।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক গাড়ি বিক্রি মার খাওয়া থেকেই শিল্পের হাল স্পষ্ট। কারণ, পণ্য উৎপাদনই না হলে কাঁচামালের জোগান বা পণ্য সরবরাহে গাড়ি লাগবে কী করে!

ভারত চেম্বারের সভাপতি সীতারাম শর্মা বলেন, ‘‘প্রধান সমস্যা চাহিদার অভাব। ফলে সংস্থাগুলি উৎপাদন বাড়াচ্ছে না। চাহিদা বাড়াতে হাতে নগদ জোগান বাড়াতে হবে। আয়কর না কমলে সমস্যা মেটা কঠিন।’’ দেকো সিকিউরিটিজের কর্ণধার অজিত দে-র অবশ্য দাবি, ‘‘সারা বিশ্বই আর্থিক সমস্যার কবলে। তাই নগদ পেলেও সকলে তা খরচে কতটা আগ্রহী হবেন, সন্দেহ আছে।’’

তবে ইন্ডিয়ান চেম্বারের সভাপতি ময়াঙ্ক জালানের মতে কেন্দ্রের করা পদক্ষেেপ চাহিদা বাড়বে, লগ্নিও।