আমেরিকাবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তানের করাচি। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেই বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে করাচির মার্কিন কনসুলেটে (উপদূতাবাস)। খামেনেইয়ের হত্যার প্রতিবাদে বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখনই নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সেই সংঘর্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংঘর্ষের বেশ কিছু ভিডিয়ো (যদি সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সব ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, উপদূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। উপদূতাবাস লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। জনসমাগম ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। লাঠিচার্জও শুরু করেন। অভিযোগ, গুলি ছোড়া হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয় করাচিতে। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে খামেনেইয়ের ছবি হাতে বেশ কয়েক জন জড়ো হন করাচির মার্কিন উপদূতাবাসের বাইরে। মুখে আমেরিকাবিরোধী স্লোগান। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে কনসুলেটের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ আটকাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপদূতাবাসের কিছু জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন বলেন, ‘‘আমরা কয়েকটি মৃতদেহ করাচির সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছি। ২০ জনের বেশি আহত।’’ তাঁর দাবি, আহত এবং নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। খামেনেই হত্যার নিন্দা করে বিবৃতি জারি করে পাকিস্তানের ইরানি দূতাবাস। আমেরিকার হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে।
শুধু পাকিস্তান নয়, আমেরিকাবিরোধী আন্দোলন চলছে পশ্চিম এশিয়ার আরও অনেক জায়গাতেই। ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনেও বিক্ষোভ দেখান অনেকে। সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছো়ড়া হয় সেখানেও।