ব্যাঙ্কে গ্রাহকের আমানতের অঙ্ক যা-ই হোক না কেন, এখন তার বিমা করা থাকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ কোনও কারণে ব্যাঙ্ক উঠে গেলে, গ্রাহক তাঁর জমার নিরিখে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। ওই অঙ্কই এ বার কেন্দ্র আরও বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে বলে শুক্রবার দাবি করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। জানালেন, সেই লক্ষ্যে শীঘ্রই বিল আনা হবে। পাশাপাশি, একাধিক রাজ্যে ব্যবসা করা সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে বিল আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

অনেকেরই দাবি, পঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কে কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে এই দুই বিল আনার বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ওই ঘটনার পরে আরবিআই ব্যাঙ্কটি থেকে টাকা তোলার সীমা বাঁধায় লক্ষাধিক গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন। নির্মলাও আজ বলেছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে সমবায় ব্যাঙ্কগুলি নিয়ন্ত্রণে কড়া আইন জরুরি।

ব্যাঙ্কে গ্রাহকের ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানতে বিমার আইন বহু দিনের। তবে সম্প্রতি ব্যাঙ্কগুলিকে সে কথা গ্রাহককে মনে করাতে নির্দেশ দেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। যে কারণে বেশ কিছু ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের উপরে ছাপ মেরে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ফেরতের কথা স্মরণ করানোর পথ নিয়েছে।

এ ছাড়া, সম্প্রতি জল্পনা ছড়িয়েছে কেন্দ্র ফের এফআরডিআই বিল আনার কথা ভাবছে। অরুণ জেটলি অর্থমন্ত্রী থাকার সময় যে আমানত বিল আনার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র। তাতে প্রস্তাব ছিল, কোনও ব্যাঙ্ক দেউলিয়া ঘোষণার মুখে দাঁড়ালে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই তাঁর জমা টাকা ব্যাঙ্ক চাঙ্গা করতে ব্যবহার করা যাবে। স্থায়ী আমানতের মেয়াদ শেষের পরেও তা আটকে রাখা বা বন্ড, শেয়ার ইত্যাদিতে বদলানোর কথাও ছিল তাতে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় শেষে বিলটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র।

অনেকের মতে, এফআরডিআই বিল ফেরানো নিয়ে যে সময় জল্পনা ছড়াচ্ছে, তখনই আমানতে বিমা বাড়ানোর এই বার্তা দিলেন নির্মলা। তাঁদের প্রশ্ন, এরও কি তাৎপর্য রয়েছে?