আরও একটি বছর শেষ হল। কেটে গেল শতাব্দীর প্রথম পঁচিশটি বছর। অর্থনীতি তথা লগ্নির দুনিয়ায় অনেক উত্থান পতন দেখা গিয়েছে এই পঁচিশে। তবে বহু ঝড়-ঝাপ্টা সয়েও মাথা তুলেছে বিভিন্ন ক্ষেত্র। ২০০১-এর প্রথম দিন সেনসেক্স ছিল ৩৯৯১। গত শুক্রবার পৌঁছেছে ৮৫,৭৬২ অঙ্কে। বৃদ্ধি ২১ গুণেরও বেশি। বড় মেয়াদে শেয়ার কতটা রিটার্ন দিতে পারে, এটা তারই ইঙ্গিত। গত বছর সোনা-রুপোর দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৭৩% এবং ১৬৪%। ১০ গ্রাম পাকা সোনা ২০০১-এ ছিল ৪৩০০ টাকা, রুপোর কেজি ৭২১৫। শুক্রবার কলকাতায় সোনা বিকিয়েছে ১,৩৫,২৫০ টাকায়। রুপো ছিল ২,৩৭,০০০ টাকা। ২০২৫-এ সেনসেক্স এবং নিফ্টি ৯%-১০% উত্থান দেখেছে। গত শুক্রবার নিফ্টি নজির গড়েছে (২৬,৩২৯)। সেনসেক্স শিখর থেকে ৭৪ পয়েন্ট পিছনে। বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি ভারতে টানা শেয়ার বেচে টাকা তুললেও সূচকের শক্তি ধরে রেখেছে ফান্ড-সহ বিভিন্ন দেশীয় আর্থিক সংস্থার বিনিয়োগ।
বছরের প্রথম বড় খবর এ বারও (জানুয়ারি-মার্চ) স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে সুদ না কমা। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ ছাঁটায় ইতিমধ্যেই জমায় সুদ কমিয়েছে ব্যাঙ্কগুলি। কিন্তু ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে হাত দেয়নি কেন্দ্র। কিছু রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন এর কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একই কারণে এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে এপ্রিল-জুনেও, যখন ভোট এসে পড়বে নাকের ডগায়। এতে আপাতত স্বস্তিতে প্রবীণ নাগরিক-সহ সুদ নির্ভর বহু মানুষ।
এ দিকে, বহু পণ্যে জিএসটির হার কমলেও তার আদায় ডিসেম্বরে বেড়েছে ৬.১%। অর্থাৎ ধরে নিতে হবে কর কমায় মোট ব্যবসা বেড়েছে। যে কারণে আদায় কমেনি। ২০২৫-এ গাড়ি বিক্রি বেড়ে হয়েছে ৪৫.৫০ লক্ষ। ডিসেম্বরে দেশে গাড়ির পাইকারি বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২৫%। এরসুফল অন্য অনেক শিল্প পাবে।
২০২৫ মন্দ কাটেনি। প্রশ্ন হল ছাব্বিশ কেমন যাবে? আশার পাশাপাশি, রয়েছে আতঙ্কও। অনুমান, জিএসটি কমার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে অনেক সংস্থা অক্টোবর-ডিসেম্বরে ভাল আয় ও মুনাফা করবে। গত বার আয়করে বড় ছাড়ের পরে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেটে নতুন সুবিধার তেমন আশা করা হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী অন্যান্য ক্ষেত্রে আর্থিক সংস্কারে মন দিতে পারেন। সুবিধা দেওয়া হতে পারে রফতানিকারীদের। প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। গত ক’বছরে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। নতুন বছরে আমেরিকার ভেনেজ়ুয়েলা আক্রমণ এবং অন্য কিছু দেশকে প্রচ্ছন্ন হুমকি সতর্ক করছে সকলকে। অনেক দেশই সামরিক ভাবে আরও বেশি প্রস্তুত হতে চাইবে। কিছু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তেমন ভাল না হওয়ায় শক্তি বাড়াতে চাইবে ভারতও। এই আবহে সোনা আরও বাড়তে পারে। সীমিত জোগান দাম বাড়াবে রুপোরও।
(মতামত ব্যক্তিগত)
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)