Advertisement
E-Paper

‘লোকজন ওদের মারে আর দূর দূর করে’, প্রবল শীতে পথপ্রাণীদের নিয়ে উদ্বেগ! কী ব্যবস্থা তথাগত ও শ্রীলেখার?

প্রতি বছরই অতিরিক্ত গরমে ও বর্ষায় জেরবার হয় এই চারপেয়েদের জীবন। চলতি মরসুমের প্রবল ঠান্ডাও তাদের জীবন সঙ্গিন করে তুলেছে। টলিপাড়ার পশুপ্রেমীরাও এই নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৬
প্রবল শীতে পথপশুদের নিয়ে উদ্বেগে তথাগত ও শ্রীলেখা।

প্রবল শীতে পথপশুদের নিয়ে উদ্বেগে তথাগত ও শ্রীলেখা। ছবি: সংগৃহীত।

শীত উপভোগ করছে বাঙালি। প্রতি বছর কলকাতা ও রাজ্যে পারদ এ ভাবে নামে না। এ বার তাই কলকাতায় বসেই দার্জিলিঙের মতো ঠান্ডা উপভোগ করছে বাঙালি। কিন্তু এই মরসুমে ভাল নেই পশুপ্রেমীরা। পথের কুকুর ও বিড়ালদের দুর্ভোগ দেখে তাঁরা চিন্তায়। প্রতি বছরই অতিরিক্ত গরমে ও বর্ষায় জেরবার হয় এই চারপেয়েদের জীবন। চলতি মরসুমের প্রবল ঠান্ডাও তাদের জীবন সঙ্গিন করে তুলেছে। টলিপাড়ার পশুপ্রেমীরাও এই নিয়ে চিন্তায়।

নিজের এলাকার পথকুকুর ও বেড়ালদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। কিন্তু তাঁর হতাশা, “ক’জনই বা ওদের জন্য ভাবে?” তাই চারপেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে অভিনেত্রী। শ্রীলেখার কথায়, “আমার এলাকার কুকুর-বেড়ালদের জন্য অনেকগুলো বস্তা কিনেছি একসঙ্গে। সেগুলি রাস্তার কোণে কোণে বিছিয়ে দিয়ে এসেছি, যেখানে সাধারণত ওরা আশ্রয় নেয়। আমার বাড়ির নীচে আমারই এক প্রিয় কুকুর কালুবাবু থাকে। ওর জন্য আমি বিছানার ব্যবস্থা করি প্রতি বছর। এ বারও বাদ যায়নি। কিন্তু সকলের জন্য তো এতটা করার ক্ষমতা নেই। সদ্যোজাত বাচ্চাদের জন্যও বিছানার ব্যবস্থা করি। আর পথকুকুরদের জামা পরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করি।”

পথকুকুরদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশের প্রতিবাদে নিয়মিত সরব শ্রীলেখা। অভিনেত্রীর ক্ষোভ, টলিপাড়ার কেউ তেমন ওদের কথা ভাবে না। বাড়িতে পোষ্য থাকলেও রাস্তার পশুদের জন্য সেই ভাবে ক’জনই বা ভাবিত? তাই আক্ষেপ নিয়েই শ্রীলেখা বলেন, “ওদের জন্য ভেবে সত্যিই কী লাভ! লোকে ওদের মেরে ফেলছে, দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে! এদের আর বেঁচে থেকে কী লাভ? বিজেপি সরকার ওদের একেবারে মেরেই ফেলুক! আমি একা কী করতে পারব? আমাদের মতো ক’টা লোকই বা করবে?”

পথকুকুর ও বেড়ালদের সুরক্ষার জন্য নিয়মিত সচেতনতার বার্তা দেন অভিনেতা-পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায়। এই শীতেও তাই নিজের সাধ্যমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। বাড়িতে থাকা কিছু পুরনো কম্বল নিজের এলাকার রাস্তায় রাস্তায় পেতে রেখেছেন তথাগত। যে জিমে যান, তার বাইরে দু’টি কুকুর থাকে। তাদের শোয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তথাগতের কথায়, “এই শীতে কুকুর-বিড়ালদের মতো পাখিদেরও কিন্তু কষ্ট হয়। পাখিদের জন্য পিচবোর্ডের বাক্সের ব্যবস্থা করেছি। অন্যদেরও বলেছি। আমার বাড়ির বাইরের ঘরের ফল্‌স-এর উপরে অনেক পায়রা থাকে। সেই পায়রাগুলিকে নিয়মিত খেতে দিই। আমি চাই, মানুষ একটু বুঝুক, আমরা এই প্রবল শীত উপভোগ করলেও, ওরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। সেই কষ্টটা যাতে আমরা একটু লাঘব করতে পারি।”

বাড়ির পুরনো কম্বল, কার্পেট, চট ফেলে না দিয়ে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পেতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তথাগত। কলকাতার মানুষ পথপশুদের জন্য চিন্তিত, এমন পর্যবেক্ষণ অভিনেতার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্য ও মফস্‌সলে ঠান্ডা আরও বেশি। সেই সব জায়গায় পথকুকুর ও বেড়ালদের অবস্থার কথা ভেবে তিনি চিন্তিত। তাই তথাগতের বক্তব্য, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকেও ওদের জন্য একটু সমব্যথী হতে বলব। গাড়ির গ্যারাজ, পরিত্যক্ত দোকান বা কোনও ঘর থাকলে, দয়া করে ওদের আশ্রয় নিতে দিন। অন্তত রাতে ও ভোরবেলা থাকতে দিন।”

পশুদের জন্য খাবারের পাত্র বা কম্বল রাখা হলেও, তা নিমেষে উধাও হয়ে যায়। তথাগতের স্পষ্ট বক্তব্য, “কেউ নিজের শীত নিবারণের জন্য কম্বল নিয়ে গেলে সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু কম্বলগুলো তুলে নিয়ে ৫০-১০০ টাকায় বিক্রি করে নেশার দ্রব্য কেনার ঘটনাও ঘটে। এটাকে আমি নিন্দা করি। কলকাতাতেই এটা হয়ে থাকে। এটা খুব ভয়ের চিত্র। মানবিকতার কাছে এগুলি লজ্জার।”

সব শেষে একটি বিশেষ দিকে নজর রাখতে বলেছেন তথাগত। এই শীতে বিড়ালেরা সাধারণত গাড়ির তলায় বা গ্যারাজে আশ্রয় নেয়। তাই অভিনেতার পরামর্শ, “আপনি বিড়াল পছন্দ না-ই করতে পারেন। কিন্তু দয়া করে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে একটু হর্ন দিন। অনেক সময়ে ছোট বিড়ালছানারা গাড়ির পাইপে বা চাকার উপরেও বসে থাকে। তাই গাড়ি চালানোর আগে ওদের জানান দিয়ে, ওদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দিয়ে যাত্রা শুরু করুন।”

Stray Dogs Sreelekha Mitra Tathagata Mukherjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy