রান্নার গ্যাস বা এলপিজির সমস্যা চট করে মেটার নয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে মার্চে দেশ জুড়ে তার যে জোগান-সঙ্কট শুরু হয়েছিল, তা এপ্রিলে বেশ কিছুটা কমেছে বটে। তবে সমস্যা বহাল থাকবে মে মাসেও— শুক্রবার এই দাবি বিশেষজ্ঞ সংস্থা কেপলার-এর। যদিও পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের বার্তা, এলপিজির জোগান অব্যাহত রাখতে গত মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি শোধনাগারগুলিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তাতে দিনে এখন ৪৬,০০০ টন তৈরি হচ্ছে ভারতে। যা জানুয়ারির তুলনায় ৪-৫ গুণ বেশি। মে মাসে নায়ারা এনার্জির একটি শোধনাগারে কাজ চালু হলে উৎপাদন পেরোবে ৫০,০০০ টন। বিদেশ থেকেও ৬.৫ লক্ষ টন কেনা নিশ্চিত করা হয়েছে। দৈনিক চাহিদা মেটাতে ২১,০০০ টন ব্যবহার করা যাবে।
গ্রাহকদের একাংশ অবশ্য গ্যাস বুকিং নিয়ে এখনও হয়রানির অভিযোগ তুলছেন। জানা গিয়েছে, শুক্রবার আইওসি-র বুকিং সফটওয়্যার ফের বিগড়েছিল। ফলে সমস্যায় পড়েন গ্রাহক-বিক্রেতারা।
কেপলারের দাবি, যুদ্ধের আগে দেশে এলপিজি-র চাহিদা ছিল দিনে প্রায় এক লক্ষ টন। এখনও সর্বোচ্চ ৮৫,০০০ টন দেওয়া যাচ্ছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা এ দিন জানান, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ৮টি জাহাজ এলপিজি নিয়ে হরমুজ় পার করেছে। মে মাসে আমেরিকা থেকে আসবে ৪.৭১ লক্ষ টন।
তার উপর কেন্দ্র জোর দিচ্ছে পাইপবাহিত রান্নার গ্যাস সংযোগেও। যে কারণে কলকাতায় নিউটাউনে একটি আবাসনের ৮০০টি বাড়িতে তা দেওয়া হয়েছে। শহরতলির আরও ১২ হাজার বাড়িতে তা দেওয়ার সুযোগ খুলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট একাংশের অভিযোগ, কলকাতা বা তার আশেপাশে পাইপের গ্যাস প্রসারে রাজ্যের সাহায্য মিলছে না। ফলে
অগ্রগতি খুবই শ্লথ, কিছু ক্ষেত্রে থমকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)