আইটিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান যোগেশচন্দ্র দেবেশ্বর মারা গেলেন। কয়েক বছর আগে ক্যানসার ধরা পড়ে তাঁর। সেই থেকে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।

যোগেশচন্দ্র দেবেশ্বরের প্রয়াণে এ দিন শোক প্রকাশ করেন আইটিসি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জীব পুরী। শোকপ্রকাশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইটারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘ওয়াই সি দেবেশ্বরজি-র প্রয়াণে আমি মর্মাহত।কর্পোরেট দুনিয়ার বড় নাম ছিলেন উনি। বিশিষ্ট শিল্পপতি হিসাবে চিনতাম ওঁকে। অনেক স্মৃতি রয়েছে। ওঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের সমবেদনা জানাই।’

শিল্পপতি নবীণ জিন্দল টুইটারে লেখেন, ‘ওয়াই সি দেবেশ্বরের প্রয়াণে  মর্মাহত। ওঁর মৃত্যুতে গোটা দেশের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।সকলের কাছে অনুপ্রেরণা ছিলেন উনি। আমিও অসম্ভব শ্রদ্ধা করতাম। ওঁকে মিস করব। ওঁর পরিবার এবং কাছের মানুষদের সমবেদনা জানাই।’

আরও পড়ুন: গুজরাত দাঙ্গার পর মোদীকে বরখাস্ত করতে গিয়েছিলেন বাজপেয়ী, আটকেছিলেন আডবাণী’​

১৯৪৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি লাহৌরে জন্মগ্রহণ করেন যোগেশচন্দ্র দেবেশ্বর। আইআইটি দিল্লি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। তার পর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট কোর্সও করেন। ১৯৬৮ সালে আইটিসি-তে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৪ সালে সংস্থার সংস্থার বোর্ট ডিরেক্টর অন দ্য বোর্ড নিযুক্ত হন। সংস্থার চিফ একজিকিউটিভ এবং চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন ১৯৯৬ সালে। তাঁর হাতেই ভোল পাল্টে যায় আইটিসি-র।

আগে শুধুমাত্র সিগারেট এবং তামাকজাত পণ্য উত্পাদন করলেও, যোগেশচন্দ্র দেবেশ্বরের হাত ধরেই ধীরে ধীরে খাদ্যপণ্য, হোটেল এবং প্রসাধনী ব্যবসার জগতে পা রাখে আইটিসি। ব্রিটেনের সিগারেট তৈরির সংস্থা ‘ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো’-র হাতে একসময় আইটিসির মালিকানা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও, তা হতে দেননি তিনি।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদও সামলেছেন যোগেশচন্দ্র দেবেশ্বর। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর অন দ্য বোর্ড এবং ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর কর্পোরেট গভর্ন্যান্সেরও সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মভূষণে তাঁকে সম্মানিত করে তত্কালীন সরকার।

আরও পড়ুন: ভারতীয় বায়ুসেনা পেল অত্যাধুনিক মার্কিন কপ্টার অ্যাপাশে​

দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে আইটিসি-র নেতৃত্বে থাকার পর, ২০১৭ সালে সংস্থার চিফ একজিকিউটিভ পদ থেকে সরে দাঁড়ান যোগেশচন্দ্র দেবেশ্বর। সেই থেকে নন একজিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসাবেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।