সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের বাড়ছে দাম। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মাথায় হাত পড়ল আইটিসি লিমিটেডের লগ্নিকারীদের। লক্ষ্মীবারে হু-হু করে নেমে যায় সিগারেট নির্মাণকারী এই সংস্থার শেয়ারের দর। এ দিন বাজার বন্ধ হলে দেখা যায় যে, গত ২১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছে স্টকের সূচক। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের অঙ্ক যে অনেকটাই বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
নতুন বছরের প্রথম দিনে (পড়ুন ১ জানুয়ারি, ২০২৬) বাজার খোলার সময় আইটিসি লিমিটেডের শেয়ারের মূল্য ছিল ৪০২.৭০ টাকা। দিনের শেষে সেটাই নেমে আসে ৩৬৩.৯৫ টাকায়। অর্থাৎ লক্ষ্মীবারে এতে ৯.৬৯ শতাংশের পতন লক্ষ করা গিয়েছে। এ দিন প্রায় ৪০ টাকা কমে যায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির স্টকের দর। এই দর কমার নেপথ্যে একটি বৃহৎ ব্লক চুক্তিকেও দায়ী করেছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
এ দিন শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার সময়েই হাতবদল হয় আইটিসির প্রায় চার কোটি স্টক। এর জন্য আগেই একটি ব্লক চুক্তি করেছিল সংশ্লিষ্ট সংস্থা। সেই সমঝোতা অনুযায়ী আইটিসির বকেয়া ইকুইটির প্রায় ০.৩ শতাংশ হাতবদল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই লেনদেনে প্রতি স্টকের গড়ে দাম ধার্য হয় প্রায় ৪০০ টাকা। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্লক চুক্তির মাধ্যমে ১,৬১৪.৫ কোটি টাকা আইটিসি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি, পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি (গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স) নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সিগারেট, বিড়ি এবং তামাকজাত দ্রব্যের উপর ৪০ শতাংশ হারে কার্যকর হবে জিএসটি। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড জিএসটির হার ২৮ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া আবগারি শুল্ক এবং জাতীয় বিপর্যয় সংক্রান্ত কর বা এনসিসিডির (ন্যাশনাল ক্যালামেটি কন্টিনজেন্ট ডিউটি) নতুন কাঠামোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছে কেন্দ্র। ফলে ফেব্রুয়ারি থেকে সাদাকাঠির ‘সুখটান’ যে বেশ দামি হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
আইটিসি লিমিটেডের বিভিন্ন ব্যবসার মধ্যে সিগারেট বেশ লাভজনক। চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-’২৬) সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির মোট রাজস্বের ৪৮ শতাংশই তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সিগারেট ব্যবসার আয় বছরে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮,৭২২ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এর পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ছ’শতাংশ, যা বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গত বছরের ১ জানুয়ারি আইটিসি লিমিটেডের শেয়ারের দাম ছিল ৪৮৩.৯৫ টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে ১২০ টাকা কমেছে সংশ্লিষ্ট স্টকটির দাম। ফলে ২৪.৮০ শতাংশ লোকসান হয়েছে লগ্নিকারীদের। শেষ পাঁচ বছরে অবশ্য এতে ৭০.১৯ শতাংশের বৃদ্ধি দেখতে পাওয়া গিয়েছে।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)