শেষ দফার ভোট হতে এক সপ্তাহও বাকি নেই। তার আগে দেশের অর্থনীতির হাল বোঝাতে গিয়ে সেই ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যতের স্বপ্নই ফেরি করল কেন্দ্র। মঙ্গলবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বারের সভায় বিমান প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিন্‌হার দাবি, গত পাঁচ বছরে সেই আগামীরই ভিত বুনেছে মোদী সরকার। কিন্তু তার পরেই প্রশ্নের মুখে পড়লেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাহিদায় ভাটা কেন? জবাবে ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করে দীর্ঘমেয়াদি সুফলের কথা বিবেচনার পরামর্শ দিলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রীর দাবি, দেশের ইতিহাসে গত পাঁচ বছরেই অর্থনীতি সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। রাজকোষ ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি, চলতি খাতে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে। মোটের উপরে বৃদ্ধি থেকেছে ৭%-৭.৫%। বিশ্বের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ ও তাতে ধারাবাহিকতা রয়েছে । আর্থিক ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য আনা হয়েছে জিএসটি, দেউলিয়া আইন। এ ছাড়া পরিকাঠামো নির্মাণ, নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেরও ফিরিস্তি দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের অবশ্য মত, মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে ঠিকই। কিন্তু কৃষিপণ্যের দাম না-বাড়ায় চাষিরা ক্ষুব্ধ। মনমোহন জমানার মতো মাত্রাছাড়া অশোধিত তেলের দরের মোকাবিলা করতে হয়নি মোদী সরকারকে। কেন্দ্র রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করলেও, বেশ ক’বার সেই লক্ষ্যমাত্রা বদলাতে হয়েছে তাদের। অনেকে মনে করাচ্ছেন, গত সপ্তাহে খোদ প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রথীন রায়ই বলেছেন, চিনের বৃদ্ধি ধাক্কা খাওয়ার জন্যই ভারতের বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। মোদীর আমলে নোটবন্দি ও তড়িঘড়ি জিএসটি চালুর জেরে বৃদ্ধিতে ধাক্কা লেগেছে বলেও তাঁদের মত।
আবার জিডিপি বেশি থাকলে, কাজের হিসেবও ভাল হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্টে কর্মসংস্থানের যে ছবি উঠে এসেছে, তা আশাব্যঞ্জক নয়। সিন্‌হার দাবি, ‘‘যাচাই না করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। বরং ইপিএফও-র মতো অন্য রিপোর্টও রয়েছে।’’ বেকারত্ব নিয়ে এনএসএসও-র ফাঁস হওয়া রিপোর্ট প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, সেই পরিসংখ্যান এখনও চূড়ান্ত নয়।
এপ্রিলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দেওয়া বা মার্চে শিল্পোৎপাদন সরাসরি কমা নিয়ে অবশ্য এ দিন মুখ খোলেননি জয়ন্ত। কিন্তু সভায় এক তরুণ শ্রোতা জানতে চান, চাহিদায় মন্দা কেন হচ্ছে? মন্ত্রীর জবাব, ভোটের মধ্যে তার বিশ্লেষণ করা শক্ত। কিন্তু যে সংস্কার হয়েছে, তাতে আর্থিক ভিত অনেক মজবুত। তার পরেই তাঁর পরামর্শ, ‘‘রোজকার ঘটনা না দেখে বরং দীর্ঘমেয়াদি ছবিটা দেখুন।’’