রিলায়্যান্স জিয়োকে বাজারে আনার সময় কর্ণধার মুকেশ অম্বানীর প্রতিশ্রুতি ছিল, আমজনতাকে আজীবন নিখরচায় মোবাইলে কথা বলতে দেবেন। খরচ গুনতে হবে শুধু ডেটার জন্য। সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙলেন মুকেশ। টেলিকম দুনিয়ায় ইন্টারকানেকশন ইউসেজ চার্জ বা আইইউসি ঘিরে শুরু হওয়া নতুন লড়াইয়ে বুধবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল জিয়ো। ভয়েস কলে মাসুল বসাল মিনিটে ৬ পয়সা হারে। জানাল, জিয়োর গ্রাহক মোবাইল থেকে অন্য সংযোগের মোবাইলে ফোন করলে ওই চার্জ গুনতে হবে। লক্ষ্য, আইইউসি খাতে অন্য সংস্থাকে মেটাতে হওয়া খরচ তোলা। তবে শিল্পের যুক্তি, ওই চার্জ জিয়ো যেমন দিয়েছে, তেমন আয়ও করেছে। জিয়ো থেকে জিয়ো সংযোগে কল করলে বা ল্যান্ডলাইনে অবশ্য এই চার্জ লাগবে না।

উল্লেখ্য, এক টেলি পরিষেবা সংস্থার গ্রাহক যখন দেশে অন্য সংস্থার মোবাইলে ফোন করেন, তখন তা সংযোগের জন্য দ্বিতীয়টিকে চার্জ দেয় প্রথম সংস্থাটি। এটাই আইইউসি। ২০১৭ সালে যা এক দফা কমানোর পরে ২০২০-এ পুরো তোলার কথা বলেছিল ট্রাই। সে কথা মাথায় রেখেই কলের মাসুল আপাতত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বসিয়েছে জিয়ো। তবে সম্প্রতি বিষয়টি ফের খতিয়ে দেখার কথা বলেছে ট্রাই। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার পরেই চার্জ বসানো তাৎপর্যপূর্ণ।

আইইউসি চার্জ শূন্যে নামানোর সওয়াল করে জিয়োর দাবি, ট্রাইয়ের বক্তব্য ছিল, এটি ভোল্টি-সহ (৪জি) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পথে অন্তরায়। তবে এ দিন এয়ারটেল ও ভোডাফোন আইইউসি রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এখনও প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ৪জি ফোন নেই। 

তা ছাড়া, আইইউসি কমালেও ৪জি ব্যবহার ততটা বাড়েনি। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত শিল্পের দুর্ভোগ বাড়বে। জিয়ো যদিও বলেছে, গ্রাহকের ফোনে কথা বলার খরচ বাড়াচ্ছে না তারা। উল্টে এই চার্জের বোঝা লাঘব করতে বাড়তি ডেটা ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।