এ বার একবেলা কলকাতায় কাজকর্ম সেরে মোটামুটি ৪৫ মিনিটে অন্যবেলায় চলে আসা যাবে বাগডোগরা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে প্রথমবারের জন্য সকাল ৮টার আগেই কলকাতা-বাগডোগরার মধ্যে বিমান পরিষেবা চালু হচ্ছে। সেই সঙ্গে একই দিনে একই রুটে রাত ৮টা নাগাদ আরও একটি বিমান চালু হচ্ছে। পুজো, বড়দিনের মরসুমের আগে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার এই পরিকল্পনায় খুশি পর্যটন মহলও। সিকিমের পাকিয়ং বিমাবন্দর থেকেও একটি বেসরকারি উড়ান সংস্থা কলকাতা এবং গুয়াহাটি যাওয়ার পাঁচটি বিমান চালু করছে।

আপাতত ঠিক হয়েছে, সকাল ৭টার পরে বিমানটি কলকাতা থেকে বাগডোগরা পৌঁছে ৭টা ৪০ মিনিটে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবে। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে বিমানটি কলকাতা পৌঁছে যাবে। ফের সন্ধ্যায় ৬টায় কলকাতা থেকে ছেড়ে ৭টা ২০ মিনিটে সন্ধেয় বাগডোগরা আসবে। পরে পৌনে ৮টা নাগাদ বাগডোগরা থেকে ছেড়ে রাত ৯টায় কলকাতা পৌঁছবে বিমানটি। ইতিমধ্যে সন্ধ্যা ৬টায় একটি কলকাতা-বাগডোগরা বিমানও ৩১ অগস্ট থেকে চালু করে দিয়েছে সংস্থাটি।

বাগডোগরা বিমানবন্দরের অধিকর্তা সুব্রমণী পি বলেছেন, ‘‘বিমানবন্দরে ধাপে ধাপে সকালে, সন্ধ্যায় বিমান চালু হচ্ছে। আইএলএস পরিষেবা, পরিকাঠামো সেইভাবে তৈরি রাখা হচ্ছে।’’

গত বছর পুজো অবধিও বাগডোগরা বিমানবন্দরের এই পরিস্থিতি ছিল না। বিমানবন্দরের অফিসারেরা জানান, সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে বাগডোগরা থেকে অধিকাংশ বিমান চলছিল। আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতার সমস্যার জন্যই বিমান সংস্থাগুলি সকালে, রাতে বিমান চালাতে পারছিল না। এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এএআই) উদ্যোগে ইন্সট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) পুজোর পরপর চালু হতে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। বিকালে ৫টার পরেই বিমান আসা যাওয়া শুরু করে। তেমনিই, কোনও বিমান দেরিতে চলাচল করলে তা আর বাতিল না করে রাত ৯টা-১২টার মধ্যে বাগডোগরা ওঠা-নামা করেছে।

এএআই-র এক কর্তা জানান, চলতি আর্থিক বছরে বাগডোগরায় যাত্রী সংখ্যা ২৩ লক্ষ ছাড়িয়েছে। রোজ ২৫-২৬টি বিমান ওঠানামা করছে। কিন্তু ছোট টার্মিনাল ভবনের জন্য বিমান সংস্থাগুলিকে সকালে ও সন্ধ্যার পরে বিমান চালাতে বলা হয়। নতুন করে বায়ুসেনার অনুমতি নিয়ে বিমানবন্দরটি ১ জুন থেকে ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা অবধি খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন সংস্থার অন্যতম কর্তা সম্রাট সান্যাল জানান, সকালে, রাতে বিমান হলে, ৭টার মধ্যে শিলিগুড়ি আসা সম্ভব হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমিত গোয়েল বলেন, ‘‘এ বার একদিনেই কলকাতা -বাগডোগরা যাতায়াত সম্ভব হবে।’’