আরও এক মাইলস্টোন পার করল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এ বার দেশের সর্ববৃহৎ সংস্থা হিসেবে উঠে এল মুকেশ অম্বানীর সংস্থা। বার্ষিক লেনদেন এবং লাভের নিরিখে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনকে (আইওসি) টপকে উপরে চলে এল রিলায়েন্স। এই মুকুটের সঙ্গে সঙ্গেই নিট লাভ, লেনদেন এবং মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন— তিন ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থান দখল করে নিল রিলায়েন্স। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে সংস্থার বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৬ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকা। সেখানে এই আর্থিক বছরে আইওসি-র মোট লেনদেনের পরিমাণ ছ’লক্ষ ১৭ হাজার কোটি টাকা।

নিট লাভের নিরিখেও চলতি আর্থিক বছরে দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল রিলায়েন্স। বিভিন্ন সংস্থা মিলিয়ে রিলের লাভের অঙ্ক ৩৯ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় সংস্থার লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার ৪৪ শতাংশ এবং সংস্থার সামগ্রিক বৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ।অন্য দিকে চলতি আর্থিক বছরে  আইওসি লাভ করেছে ১৭ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। যা রিলের অর্ধেকের চেয়েও কম।

অথচ এক দশক আগেও এই পরিস্থিতি ছিল না। ২০১০ সাল নাগাদ আইওসি-র তুলনায় রিলায়েন্সের ব্যবসার পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টেলিকম, রিটেল, ডিজিটালের মতো রিলায়েন্সের সংস্থাগুলি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি হওয়া সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে রিল। রিলায়েন্স জিও আনার পর সেই গতি আরও বৃদ্ধি পায়। মুকেশ আম্বানী নিজে যেমন দেশের মধ্যে সবচেয়ে ধনী, তাঁর সংস্থাও এ বার উঠে গেল শিখরে।

আরও পড়ুন: ফের নতুন নজির বাজারের, সর্বকালীন উচ্চতার রেকর্ড ছুঁয়েও নিম্নমুখী সেনসেক্স-নিফটি

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা, পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে রাজীবের কাছে

গত বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ছিল আইওসি। চলতি আর্থিক বছরে আর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস কমিশনের (ওএনজিসি) থেকেও লাভের নিরিখে নীচে চলে আসতে পারে। ওএনজিসি যদিও এখনও পুরো বছরের লাভ-ক্ষতির হিসেব প্রকাশ করেনি। তবে ন’মাসের লাভেই ছাপিয়ে গিয়েছে আইওসি-র থেকে। এই পরিমাণ ২২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। শেষ ত্রৈমাসিকে বিরাট কিছু লোকসান না হলে আইওসির থেকে বেশি হবে মনে করছে শিল্পমহল।