বিপাকে রাজীব কুমার। আইনি রক্ষাকবচ শেষ হতে বাকি আর তিন দিন। তার মধ্যে আইনি প্রতিকার চেয়ে নিম্ন আদালতে আবেদন জানানোর সুযোগ হয়নি কলকাতায় আইনজীবীদের ধর্মঘট চলায়। অন্য দিকে, মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা রাজীবের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি জরুরি ভিত্তিতে নথিভুক্ত করতে পারবে না।

ফলে এ সপ্তাহে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারের আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যে কোনও সময় তাঁকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনও বাধা রইল না সিবিআইয়ের। সেই গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকেই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চে  সোমবার আবেদন জানিয়েছিলেন রাজীবের আইনজীবী। বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চের সামনে রাজীবের আইনজীবীর আবেদন ছিল, কলকাতায় আইনজীবীদের ধর্মঘট চলছে। আইনি সুরক্ষা পাওয়ার কোনও সুযোগই পাননি রাজীব কুমার। তাই জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করে তাঁর রক্ষাকবচের সময়সীমা বাড়ানো হোক।

রাজীবের আবেদন শুনতে শীর্ষ আদালত যে খুব একটা আগ্রহী নয়, তা সোমবারই ইঙ্গিত দিয়েছিল আদালত। বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ১৬ মে রায় দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি-সহ তিন সদস্যের বেঞ্চ। সেই রায়ের উপর কোনও সিদ্ধান্ত তাঁর দুই সদস্যের বেঞ্চ নিতে পারবে না। রাজীবের আইনজীবীকে তিনি আদালতের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে নতুন মামলা নথিভুক্ত করতে বলেন এবং  তিন সদস্যের বেঞ্চ গঠনের আবেদন জানাতে বলেন। সেই মতো আবেদন জানানো হয়। শীর্ষ আদালতের নিয়ম অনুযায়ী বেঞ্চ গঠন এবং মামলার দিন স্থির করেন প্রধান বিচারপতি। রাজীবের আইনজীবী সোমবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার নথিভুক্তিকরণ এবং শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতি জরুরি ভিত্তিতে মামলার নথিভুক্তিকরণের আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন। অন্য আবেদনের মতোই তাঁর আবেদন বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, আগামী সপ্তাহের আগে ওই মামলা নথিভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্য দিকে এ সপ্তাহের বৃহস্পতিবারই আইনি রক্ষাকবচের সময়সীমা শেষ হচ্ছে রাজীবের।

আরও পড়ুন: সময় বাড়ানোর আর্জি, রাজীব সুপ্রিম কোর্টে​

আরও পড়ুন: এ বার মাধ্যমিকে পাশের হার সবচেয়ে বেশি, প্রথম পূর্ব মেদিনীপুরের সৌগত দাস​

সূত্রের খবর, রাজীবের মামলার গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছে সিবিআই। সে তথ্যও অজানা নয় রাজীব কুমার এবং তাঁর আইনজীবীদের। তাই এই মুহূর্তে তাঁদের নজর কলকাতায়। এখানে আইনজীবীদের ধর্মঘট চলছে ২৫ এপ্রিল থেকে। হাওড়া আদালতে ঢুকে আইনজীবীদের উপর পুলিশের লাঠিচালনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি চলছে। এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মামলার রায় মঙ্গলবার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে খবর, ওই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে কাল। বার কাউন্সিল সূত্রে খবর, মামলার রায় দেখে আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেবেন যে তাঁরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন না কাজ শুরু করবেন। অর্থাৎ, বুধবার কর্মবিরতি উঠে গেলেও বৃহস্পতিবারের আগে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম। ওই দিনই রাজীবের রক্ষাকবচের মেয়াদ ফুরোচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে কলকাতার প্রাক্তন কমিশনারের কাছে। রাজীবের আইনজীবীদের একাংশ তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, কোনও আইনজীবী ছাড়া নিজেই নিজের মামলার সওয়াল করার জন্য। আদালতের পরিভাষায় যাকে বলে ‘ইন পারসন অ্যাপিয়ারেন্স’। কিন্তু তাতেও রাজি নন ওই শীর্ষ পুলিশকর্তা। রাজীব ঘনিষ্ঠ এক পুলিশকর্তা বলেন, সে ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাঁকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ফলে দিল্লি ছেড়ে কলকাতায় আসতে গেলেও তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতি নিতে হবে। সব মিলিয়ে আইনজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজীব কুমারের সামনে এখন প্রায় সব রাস্তাই বন্ধ।