Advertisement
E-Paper

শীতের দাপট বাড়তেই বন্যপ্রাণীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, পর্যটকদের ভিড়ের চাপে অধরা টয় ট্রেন

বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উত্তরের দুই প্রধান চিড়িয়াখানা দার্জিলিঙের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক ও শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৮
বেঙ্গল সাফারি পার্কে পর্যটকদের ভিড়।

বেঙ্গল সাফারি পার্কে পর্যটকদের ভিড়। — নিজস্ব চিত্র।

নামছে পারদ। উত্তর সিকিমে তুষারপাত হয়েছে। সান্দাকফুতে তুষারপাতের সম্ভাবনা। দার্জিলিঙে তুষারপাতেরও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। শীতে যাতে বন্যপ্রাণীদের কষ্ট না হয় তাই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উত্তরের দুই প্রধান চিড়িয়াখানা দার্জিলিঙের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্ক ও শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে। পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড়ে কিন্তু খামতি নেই। বরং ভিড় বাড়ছে। তবে বহু সফরকারীদের কাছে টয় ট্রেন থাকছে ‘অধরা’।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী, বিশেষ করে সাপেরা এই সময়ে শীতঘুমে যায় তাই তাদের যাতে শীতল হাওয়া না লাগে সেই জন্য কাঠের পাটাতনে থাকার জায়গাগুলি বিশেষ ভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বাঘ ও সিংহদের জন্য রাত থেকে চালানো হচ্ছে ব্লোয়ার ও হিটার। মাটির উপরে কাঠের মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বস্তা। হরিণদের জন্য রাখা হচ্ছে শুকনো পাতা, খড় ও বস্তা।

এই প্রসঙ্গে বেঙ্গল সাফারি পার্কের ডিরেক্টর ই বিজয় কুমার বলেন, ‘‘শীত থেকে বাঁচাতে সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হিটার ও ব্লোয়ারের পাশাপাশি হিটিং প্যাড দেওয়া হয়েছে। খাবারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বদল করা হয়েছে। হরিণ, গন্ডার-সহ বেশ কিছু প্রাণীদের বাদাম জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে। যাতে শরীর গরম থাকে সেই জন্য সিংহ, চিতাবাঘ ও বাঘের মত মাংসাশী প্রাণীদের দেওয়া হচ্ছে রেড মিট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার অর্থাৎ খাসি, ছাগল ও গরুর মাংস।’’

চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, নাইট শেল্টারের কর্মীদের বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রতি শেল্টারে তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। জানানো হয়েছে, শীতের সময়ে মাংসাশী প্রাণীদের খাওয়ার পরিমাণ বেশ কিছুটা বেড়ে যায়। সেই মতো তাদের খাবারও দেওয়া হচ্ছে ।

দার্জিলিঙের ম্যাল, গ্নেনারি’জ়-এও ভিড় চোখে পড়ার মতো। টয়ট্রেনের ক্ষেত্রেও পর্ষটকদের উৎসাহে খামতি নেই। বৃহস্পতিবার ঘুম ও দার্জিলিং রেলস্টেশনে পর্যটকদের থিকথিকে ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে। দার্জিলিং-ঘুম, দার্জিলিং-কার্শিয়াং স্টেশনের মধ্যে চলাচলকারী টয় ট্রেনের প্রতিটি কামরাতেই ছিল ভিড়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নতুন করে টয় ট্রেনে সফর আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, ‘‘আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত টয় ট্রেন বুকিং রয়েছে। নতুন করে প্রচুর পর্যটক আসছেন কিন্তু তাঁদেরকে আর টয় ট্রেনে চাপানো যাচ্ছে না।’’

অন্য দিকে, দার্জিলিঙের প্রায় প্রতিটি হোটেলই কানায় কানায় পূর্ণ। ম্যালে ‘কমলালেবু উৎসব’কে কেন্দ্র করেও উন্মাদনা রয়েছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট স্যানাল বলেন, ‘‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে পুজো বা দীপাবলির সময়ে পর্যটনে যে ধস নেমেছিল তা কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে৷ বিপুল পরিমাণে পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন পাহাড়ে। আমরা সত্যিই আপ্লুত৷ আগামীতে তাঁদের সুস্থ পরিষেবা প্রদান করা এবং পর্যটনের প্রসার ঘটানোই আমাদের লক্ষ্য৷’’

কলকাতা থেকে আসা অশ্বিনী ভট্টাচার্য ম্যালে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘প্রতি বছরই এই সময়ে দার্জিলিঙে কাটানো পছন্দ করি। গত বছরেও এসেছিলাম। এ বারে ঠান্ডা একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। বর্ষবরণ উপলক্ষে কমলালেবু উৎসব হচ্ছে। পাশাপাশি, শহরটাও সুন্দর সেজে উঠেছে। সকালে ঝলমলে আকাশ ও কাঞ্চনজঙ্ঘার পুরো রেঞ্জ পরিষ্কার ভাবে দেখা যাচ্ছে।’’

তিয়াসা সেনগুপ্ত বলেন, “ম্যাল থেকে চৌরাস্তা,, টয় ট্রেনে জয়রাইড একটা অদ্ভুত অনুভূতি। বছরে শেষের এই আমেজই সারা বছরের কর্মক্ষমতা জুগিয়ে চলবে৷’’

Darjeeling Tourist Zoo toy train
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy