Advertisement
E-Paper

সরকারি উদ্যোগে রাস্তা তৈরিতেও রোড রোলার আটকে ‘কাটমানি’র দাবি, ২ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠিকাদারের

অভিযোগকারী ঠিকাদার পূর্ব বর্ধমানের জেলাপরিষদের সভাধিপতি ও জেলাশালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৪
আটকে রাখা রোড রোলার।

আটকে রাখা রোড রোলার। — নিজস্ব চিত্র।

জেলা পরিষদের টেন্ডার অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণের বরাত পেয়েছিলেন এক ঠিকাদার। অভিযোগ, কাজ শেষ করার পরে রোড রোলার-সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী আটকে রেখে কাটমানি দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি ও অঞ্চল সভাপতি। কমিশন হিসাবে চাওয়া হচ্ছে এক লক্ষ টাকা। বুধবার অভিযোগকারী ঠিকাদার পূর্ব বর্ধমানের জেলাপরিষদের সভাধিপতি ও জেলাশালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জেলা পরিষদের ঠিকাদার শেখ সুখচাঁদের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাইটিকর থেকে নতুনগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের বরাত পেয়েছিলেন তিনি। গত ১৮ ডিসেম্বর কাজ সম্পূর্ণ হলেও বর্ধমান-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানস ভট্টাচার্য ও সরাইটিকর তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বাবু হাজরার নির্দেশে তাঁর রোড রোলার-সহ কাজের যন্ত্রপাতি আটকে রাখা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে এক লক্ষ টাকা কমিশন না দিলে ওই সব সামগ্রী ছাড়া হবে না।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মানস। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ও অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করে তদন্তের আবেদন জানিয়ে জেলা পরিষদ ও বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার এই প্রসঙ্গে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠিকাদার বলেন, ‘‘রোড রোলার-সহ রাস্তা নির্মাণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আটকে রাখায় আমার ক্ষতি হচ্ছে। কাজের জন্য ওই রোলার ভাড়া করে আনা হয়েছে। শুধু শুধু ভাড়া গুণতে হচ্ছে।’’

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তিরূপ দে বলেন, ‘‘টেন্ডার ডাকা থেকে তা পাশ সব ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতাদের কাটমানি দিতে হয়। সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের উপর জুলুমবাজি করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতারা বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ ভাবে শেষ কামড় দিচ্ছে।’’

প্রসঙ্গত, অভিযোগকারী ঠিকাদার এক সময়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা ছিলেন। অন্য দিকে, যে দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁরা-সহ ১২ জন তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের এক দলীয় কর্মীর বাবাকে খুনের চেষ্টার (২০১৭) মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেছিল বর্ধমান আদালত। পরে হাই কোর্টে আবেদন জানান সাজাপ্রাপ্তরা। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ১২ জনের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে হাই কোর্টে এখনও সেই মামলা চলছে।

TMC Purba Bardhaman Zilla Parishad
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy