নদিয়ার কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রামে তমন্না খাতুনের খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁদের শুক্রবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা ১৯।
গত বছর ২৩ জুন কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রামে দুষ্কৃতীদের ছোড়া সকেট বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় তমন্নার। ঘটনার প্রেক্ষিতে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রাথমিক পর্যায়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করলেও, বাকি অভিযুক্তেরা অধরাই ছিলেন।
মেয়ের খুনিদের কঠোর শাস্তি এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আর্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিশোরীর মা সাবিনা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়ে। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে এক জনকে হরিয়ানা গিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে পুলিশ। এ বার আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হল। তবে ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৫ জন অভিযুক্ত পলাতক। জেলা পুলিশ সুপার অতুল ভি জানান, ‘‘বাকি পাঁচ জনের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাঁরাও পুলিশের জালে ধরা পড়বেন।’’
আরও পড়ুন:
গত বছর কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন তৃণমূলের জেতার পরে বিজয়োল্লাস হয় এলাকায়। ওই সময় বোমাবাজিরও অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সেই বোমার আঘাতে নিহত হয় তমন্না। গত বছরের ওই উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের আলিফা আহমেদ। এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছেন। এই ঘটনায় আলিফাকে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বক্তৃতা করতে গিয়ে তমন্নার বিচারের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর। অধিবেশনের পরে সাবিনার সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। সেই বৈঠকে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও। বৈঠক সেরে বেরিয়ে তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সুবিচারের আশ্বাস পেয়েছেন। এ বার ওই ঘটনায় আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হল।