Advertisement
E-Paper

তমন্না খুনে গ্রেফতার আরও তিন! তদন্তে ভিন্‌রাজ্যেও পুলিশি অভিযান, গুরুগ্রাম থেকে ধরে আনা হচ্ছে এক অভিযুক্তকে

মঙ্গলবার রাতে পুলিশের এক অভিযানে ধরা পড়েছিলেন সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। বুধবার এক পৃথক অভিযানে ধরা পড়েন ফারুক শেখ এবং হাফিজুল শেখ। অপর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে হরিয়ানা থেকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১২:৫১

— প্রতীকী চিত্র।

তমন্নার খুনের মামলায় গ্রেফতার করা হল আরও তিন জনকে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে। এ বার গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল। পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন আরও তিন অভিযুক্ত। তাঁদের মধ্যে এক জনকে হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁকে ট্রানজ়িট রিমান্ডে রাজ্যে নিয়ে আসা হবে।

নদিয়ার কালীগঞ্জের তমন্নার মৃত্যুতে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তমন্নার মৃত্যুর তদন্তে পুলিশের একটি দল হানা দিয়েছিল হরিয়ানায়। সেখানে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত মিনারুল শেখকে। তাঁকে ট্রানজ়িট রিমান্ডে এ রাজ্যে নিয়ে আসার জন্য স্থানীয় আদালতে হাজির করবে পুলিশ। এ ছাড়া বুধবারের পৃথক এক অভিযানে ধরা পড়েছেন ফারুক শেখ এবং হাফিজুল শেখ নামে দুই অভিযুক্তও। এই দুই অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার হাজির করানো হবে কৃষ্ণনগর আদালতে।

মঙ্গলবার রাতে পুলিশের এক অভিযানে ধরা পড়েছিলেন সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। পুলিশের এফআইআরে এই দু’জনের নাম থাকলেও দীর্ঘদিন তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে ছিলেন তাঁরা। শেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদে তাঁদের গোপন ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। ওই রাতেই তাঁদের পাকড়াও করে কালীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। পরে কৃষ্ণনগর আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক দু’জনের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এ বার তমন্নার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হল আরও তিন জনকে।

ভিন্‌রাজ্য থেকে মেয়ের খুনে অভিযুক্তের গ্রেফতারির খবর পেয়ে খুশি তমন্নার মা সাবিনাও। তিনি বলেন, ‘‘আমি যে এতদিন ঠিক বলছিলাম, তা প্রমাণ হল। পুলিশ চাইলে আগেই ওদের গ্রেফতার করতে পারত। কিন্তু পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে ধৈর্য ধরে আমার কথা শুনেছিলেন, তখনই আশার আলো দেখেছিলাম। তবে এত দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে, তা ভাবতে পারিনি। এ বার আমি ওদের ফাঁসি চাই।”

গত বছর কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন তৃণমূলের জেতার পরে বিজয়োল্লাস হয় এলাকায়। ওই সময় বোমাবাজিরও অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সেই বোমার আঘাতে নিহত হয় তমন্না। গত বছরের ওই উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের আলিফা আহমেদ। এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বক্তৃতা করতে গিয়ে তমন্নার বিচারের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। দাবি করেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর। অধিবেশনের পরে সাবিনার সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। সেই বৈঠকে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও। বৈঠক সেরে বেরিয়ে তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সুবিচারের আশ্বাস পেয়েছেন। সেই সাক্ষাতের পর থেকে এখনও পর্যন্ত তমন্নার খুনের তদন্তে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হল।

West Bengal Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy