বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দেমাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ উদ্যাপিত হচ্ছে দেশ জুড়ে। এরই মধ্যে পালিত হল বঙ্কিমের ১৮৯ তম জন্মদিন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আচার্য তথা রাজ্যপাল আরএন রবি জানালেন, স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেশ তার ভারতসত্তা হারাতে বসেছিল। ২০১৪-র পর তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়াসী হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গবেষক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য, ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। অমিত্রসূদন বলেন, “শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বঙ্কিম। তবে, নানা সময়ে তাঁকে মুসলিমবিরোধী তকমা দেওয়া হয়েছে। ছ’দশক গবেষণার পর আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, বঙ্কিম কখনই মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন না। তিনি বিরোধিতা করেছিলেন হিংস্র শাসকের। ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজের প্রতি তাঁর কোনও বিরূপতা ছিল না।”
রাজ্যপাল অবশ্য তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের নানা দিক। তাঁর মতে, “বন্দেমাতরম প্রায় বৈদিক মন্ত্রের মতোই শক্তিশালী। আমরা যে সকলেই দেশ মায়ের সন্তান, সেই বোধ জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বাধীনতার পর মা এবং পরিবারের ভাবনা শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে বিভাজিত হয়ে যায়।” রাজ্যপালের দাবি, তৎকালীন নেতারা দেশকে ইউরোপীয় ভাবনার প্রতিলিপিতে পরিণত করেছিলেন। নষ্ট হয়েছিল ভারতসত্তা।
সেখানেই ২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশকে ফের পরিবার হিসাবে গড়ে তুলছেন। ‘সবকা সাথ-সবকা বিকাশ-সবকা প্রয়াস’ তারই উদাহরণ।
রাজ্যপালের ভাষণে উঠে আসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রসঙ্গও। পরে তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গও বিশিষ্ট মনীষীদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। এ বার ফের পুনরুত্থান হবে বলে তিনি আশাবাদী। উপস্থিত সব ছাত্রছাত্রীকে দেশের জন্যে কিছু করার জন্য উদ্বুদ্ধও করেন তিনি।