বিকল্প বিদ্যুতের সাহায্যে যদি মিড-ডে মিল রান্না করা যায়, তা হলে এলপিজি সাশ্রয় হতে পারে। গত এপ্রিল থেকে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছে দেশ। ইরান-ইজ়রায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জ্বালানি সঙ্কটও তৈরি হয়েছিল। সে সময়ই আন্দাজ করা গিয়েছিল, মিড-ডে মিল রান্নার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ বার বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে চাইছে সরকার।
জানা গিয়েছে, রান্নার গ্যাসের বদলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার করে মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রায় ২ হাজার স্কুলে সৌর প্যানেল রয়েছে। সরকারের তরফ থেকেই এই প্যানেল দেওয়া হয়েছে। দুই মেদিনীপুর জেলার অধিকাংশ স্কুলে এই সৌর প্যানেল রয়েছে। অন্য জেলায়ও এই ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু কোন কোন স্কুলে সৌর প্যানেল ঠিকমতো কাজ করছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে। মনে করা হচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে ওই স্কুলগুলিকে দিয়েই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এমনই জানিয়েছেন দফতরের এক কর্তা।
যদিও শিক্ষামহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন এই প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রান্না করতে গেলে যে বৈদ্যুতিন চুল্লির প্রয়োজন হবে, তার ব্যবস্থা কি সরকার করে দেবে? প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য দেবে, না কেন্দ্র? শুধু তা-ই নয়, নিয়মিত রান্নার জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন, তার জোগান পেতে আরও বেশি প্যানেল বসাতে হতে পারে।
দফতরের এক কর্তা জানান, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্যাসের সাশ্রয়ের জন্য এই প্রকল্প শুরু হচ্ছে। হিটারের বিষয়টি এখনও আলোচনার স্তরে রয়েছে। তবে খুব দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করে এই কাজ শুরু করে দেওয়া হবে।
‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি জানান, বর্তমানে যে কয়েকটি সৌর প্যানেল রয়েছে স্কুলগুলিতে, তা থেকে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। তা দিয়ে আলো-পাখার বন্দোবস্তই করা যায় না সব ঘরে। এর উপর হিটার জ্বালিয়ে রান্না করতে গেলে উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে সরকার ভাবনাচিন্তা করুক। শুধু তা-ই নয়, নতুন পদ্ধতিতে রান্না করতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন। রাঁধুনিদের তা-ও দিতে হবে।”
যদিও চন্দন মনে করেন, কলকাতার মতো জেলার স্কুলগুলির জন্যও তৃতীয় পক্ষকে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়াই ভাল।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “এই পদক্ষেপকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। কিন্তু উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি না করে এর বাস্তবায়ন করা যথেষ্ট কঠিন। সরকারকে এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।”