কেতন অগ্রবাল খুনের নেপথ্যে কি পরচুলা ছিল? নানা রকম সম্ভাব্য তত্ত্বের মধ্যে এটি একটি নতুন সংযোজন। তদন্তকারীদের কাছে কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে পরচুলা পরতেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তা হলে কি ওই পরচুলাই মৃত্যু ডেকে আনল কেতনের? কেতন পরচুলা পরতেন সেটা জানতেন সিয়া। বিষয়টি নিয়ে তিনি মোটেই খুশি ছিলেন না বলেও বেশ কয়েকটি সূত্রে সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। যখন পরচুলা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে কেতনের বাবা দাবি করলেন, পরচুলার জন্য মৃত্যুর বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
কেতনের বাবা পরচুলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সিয়ার পরিবার এই বিষয়টি জানত। এমনকি সিয়াকেও এ কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কেউই তাতে খুব একটা আপত্তি জানাননি। কেতনের খুনের কারণ নিয়ে যখন নানা তত্ত্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার মধ্যে এই পরচুলা তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে। কেতনের বাবা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এটা সত্যি যে, কেতনের পরচুলা ছিল। সিয়া ও তাঁর পরিবারকে বাগ্দানের আগে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। যদি সিয়ার এতে আপত্তি থাকত, তা হলে এই বিয়েতে সায় দিত না। তা হলে আমার ছেলেকে খুন করল কেন?’’
যদিও তদন্তকারীরা বলছেন, শুধুমাত্র পরচুলার জন্য কেতনকে খুন হতে হয়েছে, এই তত্ত্ব খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এই বিষয়টিকেও খুনের কারণ হিসাবে দেখা হতে পারে। কেতনের বাবা আরও জানান, সিয়াদের পরিবার দাবি করেছে যে, ট্রেকিংয়ের জন্য কেতনই জোর করেছিলেন সিয়াকে। কিন্তু সেই দাবি সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর কথায়, ‘‘আমি যতদূর জানি, সিয়াই আমার ছেলেকে ট্রেকিংয়ের জন্য জোরাজুরি করেছিল।’’
অন্য দিকে, সিয়ার পরিবারও দাবি করেছেন, তাঁদের কন্যা এই বিয়ে নিয়ে যথেষ্ট খুশি ছিলেন। কেতনকেই বিয়ে করার কথা বার বার বলতেন। সিয়ার মা বলেন, ‘‘সিয়ার বিয়ে ঠিক করার আগে ওকে বার বার জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই সম্পর্কে সে খুশি তো? ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেতনকে তোর পছন্দ তো? বিয়ের জন্য কথাবার্তা এগোব? প্রতি ক্ষেত্রেই সিয়া সম্মতি দিয়েছিল।’’ প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠেছে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনের বিরুদ্ধে। দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।