২৬/১১ মুম্বই হামলার ঘটনায় সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন তিনি। সেই উজ্জ্বল নিকমকে এ বার পুণেতে ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের খুনের মামলায় সরকারের তরফে বিশেষ আইনজীবী হিসাবে নিযুক্ত করা হল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস জানান, তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের দাবি ছিল উজ্জ্বলকে কেতন হত্যা-মামলায় সরকারের তরফে দায়িত্ব দেওয়া হোক। পরিবারের সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান দেবেন্দ্র।
পুণেতে কেতনের বাবা বিশাল অগ্রবাল শুক্রবার দেবেন্দ্রের সঙ্গে দেখা করেন। পুত্রের খুনের ঘটনায় ‘সুবিচারের’ দাবি জানান তিনি। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা এবং সঠিক পথে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন দেবেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আমরা এই ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’’ দেবেন্দ্র জানান, কেতনের পরিবার যাতে সুবিচার পায়, তার সব রকম চেষ্টা করা হবে।
কেতনের পরিবারের তরফে দু’টি দাবি করা হয়েছিল— এই মামলার শুনানি যেন ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে করা হয়। আর এই মামলায় উজ্জ্বল নিকমকে নিযুক্ত করে সরকার। তাদের এই দুই দাবিই মেনে নিয়েছে সরকার। উজ্জ্বলকে এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। মামলা লড়ার বিষয়ে তিনি সম্মতিও দিয়েছেন।
আইনজীবী হিসাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন উজ্জ্বল। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়। সেই মামলায় সরকারি আইনজীবী হিসাবে আদালতে সওয়াল করেছিলেন উজ্জ্বল। তা ছাড়াও ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণকাণ্ড, গুলশন কুমার হত্যা মামলা, প্রমোদ মহাজন মামলা, ২০১৩ সালের মুম্বই গণধর্ষণ মামলায় সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে পদ্মশ্রী পান।
আরও পড়ুন:
কেতন হত্যা মামলার পরতে পরতে রহস্য। এখনও পর্যন্ত তদন্তে উঠে এসেছে, কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী পরিকল্পনা করে খুন করেছেন। পুণের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। ৪৫০ ফুট গভীর খাদের নীচ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে পুলিশের মনে হয়েছিল, ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ের কিনারায় নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কেতন। যদিও মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য। পুণে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ গিল জানান, তদন্তের শুরুতে কেতনের মৃত্যুর জন্য তাঁর বাগ্দত্তা সিয়ার উপর সহানুভূতি জন্মেছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা, যা সন্দেহ জাগায়। পরে এই মামলায় সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে দু’জনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। কেন কেতনকে খুন করা হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা তথ্য উঠে এসেছে। খুনের পরিকল্পনা কার মস্তিষ্কপ্রসূত, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া করে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুই অভিযুক্তের বয়ান নেওয়ার পাশাপাশি চলছে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ।
শুক্রবার কেতনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর দেবেন্দ্র জানান, শিক্ষিত যুবসমাজের মধ্যে কেন ক্রমবর্ধমান ভাবে ‘প্রতিশোধমূলক এবং বিকৃত মানসিকতা’ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে আত্মবিশ্লেষণের প্রয়োজন। দেবেন্দ্রের কথায়, ‘‘এই ঘটনা মর্মান্তিক। এটি শুধু একটি অপরাধই নয়, বরং একটি সামাজিক বিষয়, যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার প্রয়োজন।’’