খুনের পরিকল্পনা দু’বার ভেস্তে যাওয়ার পর সিয়া গয়ালকে ধমক দিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়াকে চেতন বলেছিলেন, ‘‘তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না। কাজটা করতে হবে আমাকেই।’’ অভিযুক্তদের জেরা করে পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের খুনের ঘটনায় নয়া তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে।
সূত্রের খবর, অভিযুক্ত সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেন তদন্তকারীরা। সেখানেও দু’জনের কথার মধ্যে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। খুনের পরিকল্পনা কে করেছেন, তা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বিভ্রান্ত করার জন্য জেনেবুঝেই দু’জনে এক এক সময়ে এক এক রকম তথ্য দিচ্ছেন। জেরার সময় চেতন পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সিয়াকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি। পালানোর পরিকল্পনার কথাও সিয়াকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিয়া পরিবারের সম্মানরক্ষার্থে পালাতে চাননি।
আরও পড়ুন:
-
প্রেম করা সত্ত্বেও কেন কেতনের সঙ্গে বাগ্দানে রাজি হন সিয়া? কেন হত্যা করার পথ বাছলেন? চাঞ্চল্যকর দাবি প্রেমিক চেতনের
-
‘আমার জন্মদিনেই ছেড়ে চলে গেলে’! পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতনকে খুনের পরই কেন আবেগঘন পোস্ট করেন সিয়া?
-
পুণের ব্যবসায়ীপুত্র খুন: ৩ বছর ধরে সিয়ার সঙ্গে প্রেমিক চেতনের সম্পর্ক ছিল, গত ছ’মাসে ২০০০ বার ফোনে কথা হয় দু’জনের!
তদন্তকারী সূত্রের খবর, চেতন আরও দাবি করেছেন, সিয়ার জোরাজুরিতেই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সিয়া তাঁকে বলেছিলেন, তাঁদের পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। যেখানেই তাঁরা পালানোর চেষ্টা করুন না কেন, পরিবারের লোকজন ঠিক খুঁজে বার করে ফেলবেন। চেতনের দাবি, তার পরই সিয়া জানিয়েছিলেন যে, কেতনকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়াই একমাত্র পথ হতে পারে। তবে সিয়া কিন্তু আবার অন্য দাবি করেছেন পুলিশি জেরায়। তাঁর দাবি, কেতনকে খুনের পরিকল্পনা মাথায় প্রথম এসেছিল চেতনেরই। ১৪ জুন খুনের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় চেতন ভেঙে পড়েছিলেন। কান্নাকাটি করেছিলেন তাঁর কাছে। সিয়ার দাবি, এর পরই চেতন তাঁকে ধমকে বলেছিলেন, ‘‘তোমার দ্বারা হবে না। এ কাজ আমাকেই করতে হবে।’’ তবে তদন্তকারীদের দাবি, দ্রুত এই কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন চেতন, যাতে সিয়াকে নিয়ে মহাবালেশ্বরে গিয়ে একান্তে সময় কাটাতে পারেন। কেতনকে খুনের পরেও দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়া কিংবা চেতন দুই অভিযুক্তের কারও মধ্যে কোনও রকম অনুতাপের লেশমাত্র ধরা পড়েনি জেরার সময়।