Advertisement
E-Paper

প্রেম করা সত্ত্বেও কেন কেতনের সঙ্গে বাগ্‌দানে রাজি হলেন সিয়া? কেন হত্যা করার পথ বাছলেন? চাঞ্চল্যকর দাবি প্রেমিক চেতনের

কেতনের পরিবার তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই সিয়ার সম্পর্কে কিছু একটা সন্দেহ দানা বাঁধছিল কেতনের মনে। সে কথা বাড়িতেও জানিয়েছিলেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১১:০৬
(বাঁ দিক থেকে) কেতন, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিক থেকে) কেতন, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। ছবি: সংগৃহীত।

সিয়া গয়ালের পরিবার কি জানত চেতন চৌধরীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্কের কথা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নয়া তথ্য উঠে এল তদন্তকারীদের কাছে। তদন্তকারী এক সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, চেতনের সঙ্গে সিয়ার সম্পর্কের কথা ভাল ভাবে অবগত ছিল তাঁর পরিবারের। কিন্তু দু’জনের মেলামেশা পছন্দ করছিল না তাঁর পরিবার। প্রসঙ্গত, গত বছরের দীপাবলিতে দু’জনের আলাপ। তার পর সেই আলাপ গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে।

ওই সূত্রের খবর, প্রথম প্রথম চেতনের সঙ্গে সিয়ার সম্পর্কের কথা জানতে পারেনি তাঁর পরিবার। কিন্তু সিয়া যখন ফোনে নিয়মিত চেতনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে শুরু করেন, তখনই পরিবারের সন্দেহ হয়। এবং তারা জানতে পারে যে, চেতন নামে এক যুবককে ভালবাসেন সিয়া। এই সম্পর্কের কথা জানার পরই পরিবারের সদস্যেরা আপত্তি জানান। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সিয়ার পরিবার চেতনকে উপযুক্ত পাত্র বলে মনে করত না।

শুকনো ফলের ব্যবসা রয়েছে চেতনের। একটি বেকারি চালাতেন সিয়া। সেই সূত্রে দু’জনের মাঝেমধ্যেই কথা হত। তবে গত বছরে দিওয়ালির একটি পার্টিতে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তার পর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। ঘটনাচক্রে, সিয়ার বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য সম্বন্ধ দেখা চলছিল সেই সময়ে। ব্যবসায়িক সূত্রে কেতন অগ্রবালের পরিবারের সঙ্গে সিয়ার পরিবারের আলাপ ছিল। ব্যবসায়ী বিশাল অগ্রবালের পুত্র কেতন বাবার রিয়্যাল এস্টেটের ব্যবসা সামলাতেন। কেতনের পরিবারের কাছে সিয়ার বিয়ের প্রস্তাবও দেয় তাঁর পরিবার। তাতে কেতনের পরিবার রাজি হয়ে যায়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সিয়ার বাড়ির সদস্যেরা যখন প্রেমিক চেতনের কথা জানতে পারেন, তত দিনে কেতনের সঙ্গে সিয়ার বিয়ের কথা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল।

তদন্তকারী এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রেমিক চেতনকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাঁরা দু’জনে পালিয়ে না গিয়ে কেন কেতনকে খুনের রাস্তা বেছে নিলেন? কেন সিয়া তাঁর বাগ্‌দান অনুষ্ঠান বাতিল করলেন না? জেরায় চেতন দাবি করেন, পরিবারের অসম্মানের ভয়ে কেতনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সিয়া। তাই বাগ্‌দান অনুষ্ঠান বাতিল করতে চাননি। পরিবারের সম্মান হারানোর ভয়, অন্য দিকে, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা— এই দুইয়ের টানাপড়েন চলছিল সিয়ার মধ্যে। চেতনের দাবি, তাই সিয়া তাঁর সঙ্গে পালাতে চাননি। তাঁদের সম্পর্কের মাঝে কেতন বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন বলে তাঁকেই সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। জেরায় তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, তাঁদের পরিকল্পনা ছিল বিষয়টিকে এমন ভাবে সাজানো হবে, যেন সেটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়।

তবে কেতনের পরিবার তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছে যে, বেশ কিছু দিন ধরেই সিয়ার সম্পর্কে কিছু একটা সন্দেহ দানা বাঁধছিল কেতনের মনে। সে কথা বাড়িতেও জানিয়েছিলেন তিনি। সিয়ার সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কেতন। শুধু তা-ই নয়, সিয়া সম্পর্কে ভাল ভাবে খোঁজখবর নেওয়ার কথাও বাড়িতে জানান। কেতনের বাবা অনিল অগ্রবাল দাবি করেছেন, সিয়ার সঙ্গে কেতনের দ্রুত বিয়ের জন্য বার বার বলা হচ্ছিল সিয়াদের পরিবার থেকে। কিন্তু তাঁরা এত দ্রুত বিষয়টি মেটাতে চাইছিলেন না। অনিলের দাবি, দু’জনেরই বয়স অল্প, তাই তাড়াতাড়ি না করে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা চাইছিলেন তাঁরা। কেতনও বিয়ে করার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলেন না বলেও দাবি অনিলের। তাঁর কথায়, ‘‘সিয়ার পরিবার বার বার অনুরোধ করায় শেষে এই বিয়েতে রাজি হই আমরা। সিয়াদের পরিবারকে আমরা ৩০-৪০ বছর ধরে চিনি। কিন্তু সেই মেয়ে যে এই কাণ্ড ঘটাবে ভাবতে পারছি না।’’

অনিল আরও বলেন, ‘‘আমরা জানতেই পারিনি যে সিয়া এই বিয়েতে খুশি নয়। প্রতি দিন কেতন আর সিয়া বাইরে খেতে যেত। ঘুরতে যেত। কেতনকে ফোন করত। আমার মেয়ে, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলত। কেতনকে এক বারের জন্য তাঁর সম্পর্কের কথা জানাতে পারল না সিয়া? আমাদেরও জানাতে পারত। তা হলে এই বিয়েতে রাজি হতাম না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘কেতন আমাকে এক বার বলেছিল যে, সিয়াকে ফোন করলেই ওর ফোন ব্যস্ত থাকে। কখনও কখনও ওয়েটিংয়েও পাওয়া যায়। সিয়াকে এ বিষয়ে কেতন জিজ্ঞাসাও করেছিল। কিন্তু ও জানিয়েছিল বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে তাই ফোন ব্যস্ত থাকে।’’ এর পরই অনিলের প্রশ্ন, ‘‘সিয়া এক বারের জন্যও বলতে পারল না যে, এই বিয়েতে ও রাজি নয়। তা হলে বিয়ে বাতিল করে দেওয়া হত। কেন সিয়ার পরিবার বিয়ের জন্য জোরাজুরি করেছিল?’’

Crime

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy