বৃষ্টির সময় ট্রেনের দরজা বন্ধ রাখা হবে না খোলা, এই নিয়ে তর্কাতর্কি। সেই বিবাদের জেরে চলন্ত ট্রেনে তরুণকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল সহযাত্রীর বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা এই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম শ্রেণির কামরায় ময়াঙ্ক লোহার নামের এক তরুণকে একাধিক বার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান সচিন সুবর্ণা নামে অন্য এক যাত্রী। সেই ভয়াবহ ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ে, ২২ বছর বয়সি ময়াঙ্ক অফিস শেষ করে ভিরারে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। অন্ধেরি থেকে লোকাল ট্রেনে ওঠার সময় তিনি কল্পনাও করতে পারেননি এটাই তাঁর শেষ রেলসফর। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির সময় ট্রেনের দরজা খোলা রাখা হবে কি না, তা নিয়ে বিবাদের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। ভিড়ে ঠাসা প্রথম শ্রেণির কোচের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন ময়াঙ্ক। সচিন নামের অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সি তরুণও কামরার দরজার সামনে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের মধ্যে এক জন দরজা খোলা রাখতে চেয়েছিলেন, আর অন্য জন আপত্তি জানিয়েছিলেন কারণ কোচের ভিতরে বৃষ্টির জল ঢুকছিল। অন্ধেরি ও বোরিভালি স্টেশনের মাঝামাঝি তর্কাতর্কি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পর, সচিন একটি ধারালো অস্ত্র বার করে ময়াঙ্ককে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কামরার ভিতরেই ময়াঙ্কের পেটে ও বুকে একের পর এক আঘাত করেন সচিন। ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অস্ত্রের আঘাতে জখম তরুণ কামরার মেঝেয় লুটিয়ে প়ড়ে কাতরাচ্ছেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। ভিড়ঠাসা কামরায় অস্ত্র হাতে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখেন কালো জামা পরা সচিন। বোরিভেলি স্টেশনে ঢোকার সময় ট্রেনের গতি কমতেই সুবর্ণা কামরা থেকে লাফিয়ে নেমে ভিড়ের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জিআরপি এবং আরপিএফের আধিকারিকেরা কামরায় পৌঁছোন। আহত যাত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টায় দ্রুত চিকিৎসা কর্মী এবং কুলিদের ডাকা হয়। তরুণকে উদ্ধার করে প্রথমে স্টেশনের জরুরি চিকিৎসা কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কান্দিভালির শতাব্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। মর্মান্তিক এই ভিডিয়োটি ‘নেডরিক নিউজ়’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। সাংঘাতিক দৃশ্যটি দেখে শিউরে উঠেছেন নেটাগরিকেরাও।
আরও পড়ুন:
সাতটি তদন্তকারী দল গঠন করে সন্দেহভাজনের গতিবিধি শনাক্ত করার কাজ শুরু করে রেলপুলিশ। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অন্ধেরি, বোরিভালি, মিরা রোড, নাল্লাসোপারা পথের প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে শুরু করেছেন রেলকর্তৃপক্ষ। ফুটেজটির সাহায্যেই তদন্তকারীরা অবশেষে হামলাকারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। অভিযুক্ত তরুণ মীরা রোডের বাসিন্দা এবং মুম্বই বিমানবন্দরের কাছে সাহার কার্গো কমপ্লেক্সে কাজ করতেন। ঘটনার পর সচিন বাড়ি ফিরে তার বাবাকে জানান যে ট্রেনে তাঁর সঙ্গে এক তরুণের বচসা হয়েছিল। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি মধ্যরাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পুলিশের জালে ধরা না দেওয়ার জন্য মুম্বই ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। তদন্তকারীরা আধিরকারিকেরা পানভেলে তাঁর সন্ধান পেয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সচিনকে গ্রেফতার করেছে।