দীর্ঘায়ুর জন্য অনেকেই কঠোর রাস্তা বেছে নেন। কেউ বা অলৌকিকতার কথা বলেন। কিন্তু এমন ধারণার সঙ্গে সহমত নন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের স্বামী, হার্টের শল্যচিকিৎসক শ্রীরাম নেনে। তাঁর মতে, প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসের উপর নির্ভর করে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পাবেন কি না। তাঁর কথায়, দীর্ঘায়ু আসলে একটি দৈনন্দিন অনুশীলন, যা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
আর তাই ছুটির দিন দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দিচ্ছেন নেনে। সপ্তাহান্তের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই নিজের রুটিনে ছোটখাটো বদল আনুন। যার ফলে জীবনে আসতে পারে বড়সড় বদল। মাধুরীর স্বামী একটি অভ্যাসের তালিকা ভাগ করে নিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই— ব্যস্ত সপ্তাহের শেষে নিজের শরীর ও মনের দিকে একটু নজর দেওয়া।
কোন কোন দিকে নজর দিতে বলছেন মাধুরীর চিকিৎসক স্বামী? ছবি: সংগৃহীত
১. ঘুম: নেনের মতে, গুরুত্ব দিতে হবে ঘুমকে। অনেকেই সপ্তাহ জুড়ে কম ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত আট ঘণ্টার ঘুমই শরীরকে চাঙ্গা করতে পারে। ঘুমের সময়ে শরীর কোষের মেরামতির কাজে ব্যস্ত থাকে। মস্তিষ্ক সমস্ত তথ্য সাজিয়ে নেয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়। তাই সপ্তাহান্তেও ঘুমের সময়সূচি খুব বেশি বদলে না ফেলাই ভাল।
২. জলপান: ঘন ঘন জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। সারা দিন ধরে অল্প অল্প চুমুক দিলে তবেই তিন লিটার জলপানের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে। অনেক সময়ে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা বা মনোযোগের ঘাটতির নেপথ্যে জল না খাওয়ার ভূমিকা থাকতে পারে।
৩. সিঁড়িভাঙা: দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ফলে শরীরের উপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমাতে নিয়মিত সক্রিয় থাকা জরুরি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে কাটাতে হবে। হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটাও উপকারী হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হল, নিয়মিত সক্রিয় থাকা। নেনে বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙার পরামর্শ দিচ্ছেন। কোনও খরচ ছাড়াই জিমের উপকারিতা পেয়ে যাবেন।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করে নিজেকে সুস্থ রাখুন। ছবি: সংগৃহীত
৪. স্মার্টওয়াচ: সুস্বাস্থ্যের জন্য স্মার্টওয়াচ অপরিহার্য নয়, কারণ, এর তথ্য সর্বদা নির্ভুল হয়, তা নয়। এর ফলে অযথা উদ্বেগ বাড়তে পারে। তা ছাড়া, অতিরিক্ত নোটিফিকেশন মানসিক চাপ ও মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি, ক্রমাগত যদি কেউ আত্মবিশ্বাসে আঘাত করে, তা হলে সুস্থ থাকার ইচ্ছে চলে যাবে। তবে স্মার্টওয়াচকে খুশি করার জন্য খানিক কসরত করাই যেতে পারে।
৫. খাবার: সপ্তাহান্তে হরেক রকম ভাজাভুজি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে স্যালাড অর্ডার করতে বলছেন নেনে। প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে শাকসব্জি, ফল, ডাল, বাদাম এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, পুষ্টি জোগানোর জন্য খাওয়া দরকার বলে মত তাঁর।
৬. অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট: খাবারের মধ্যে যথাসম্ভব অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের উপস্থিতি প্রয়োজন। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি জাতীয় ফলে এই পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। একে শরীরের এক ধরনের রক্ষাকবচ বলা যায়, যা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকাল ধ্বংস করে সুস্থ কোষগুলিকে রক্ষা করে। ক্যানসার, হৃদ্যন্ত্রের রোগ, ডায়াবিটিস এবং অকালবার্ধক্যের ঝুঁকি কমায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট।
বেরিজাতীয় ফল খাওয়া কেন দরকার? ছবি: সংগৃহীত
৭. ডাম্বেল: শক্তিবৃদ্ধি, পেশির সুগঠন ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ডাম্বেল দিয়ে শারীরচর্চা করা দরকার। এটি হাত, কাঁধ, ও পিঠের শক্তি বাড়ায়। তাই নির্দিষ্ট ভারের ডাম্বেল তোলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
৮. হাঁটার জুতো: নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। এটি হৃদ্যন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কমায়, বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভাল রাখে, হজমশক্তি বাড়ায়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
৯. সানস্ক্রিন: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে রোদে পোড়া এবং অকালবার্ধক্যের ছাপ পড়বে না সহজে।
আরও পড়ুন:
১০. অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ, এতে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। যাকে দীর্ঘায়ুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নেনে।