খাওয়ার পর হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে অনেক ডায়াবিটিসের রোগীর। আবার খানিক ক্ষণ পরে অনেকটা নেমেও যেতে পারে। সুগারের এমন ওঠানামা স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। আর তাই খাওয়ার আগে বিশেষ এক তরল পান করার কথা বলা হচ্ছে সমাজমাধ্যমের একাধিক ভাইরাল পোস্টে। আর তা হল, অ্যাপল সাইডার ভিনিগার। এই দাবি আদৌ কতটা সত্য? বিস্তারিত জানাচ্ছেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র।
চিকিৎসকের বক্তব্য, এই ভিনিগার মূলত অ্যাসিটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ একটি তরল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খাবারের আগে বা খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ভিনিগার খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়তে পারে।
অ্যাপল সাইডার ভিনিগার। ছবি: সংগৃহীত
তিনটি উপকারিতা রয়েছে এর—
১. ভিনিগার পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ভাত-রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজ়ে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াও শ্লথ হয়।
২. অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে এমনিতেই রক্তে শর্করার মাত্রা চট করে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে না।
৩. কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার। খাওয়ার পর যে সুগার বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তার ৮০ শতাংশই পেশির কোষের মধ্যে ঢুকে যায়। এই কাজটিই সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে ভিনিগার।
যে ভাবে খাবেন—
চিকিৎসকের পরামর্শ, ১ টেবিল চামচ ভিনিগার এক গ্লাস জলে মিশিয়ে পান করতে হবে। দিনে তিন বার— প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, নৈশভোজের আধ ঘণ্টা আগে খেতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘অ্যাপল সাইডার ভিনিগার স্ট্র দিয়ে পান করা ভাল। নয়তো অ্যাসিডিক বলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে হতে পারে।’’ তা ছা়ড়া বাজারে হাজারো ব্র্যান্ডের ভিনিগার পাওয়া যায়, সব কিন্তু নিরাপদ নয়। যে বোতলের গায়ে কাঁচা এবং অপরিশোধিত লেখা থাকবে, সেটিকেই একমাত্র সুপারিশ করছেন চিকিৎসক।
আরও পড়ুন:
কারা খাবেন না—
যাঁদের পাকস্থলীতে আলসার, অতিরিক্ত অম্বলের সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিনিগার পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। আবার কিছু ওষুধের সঙ্গেও এর বিরোধ থাকতে পারে। তাই নিয়মিত ভিনিগার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা বাঞ্ছনীয়।