পরিবারের ঠিক করা ছেলেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি। পাসপোর্ট লুকিয়ে বালি যাওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে রাজস্থানের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। তার পর প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বাগ্দত্তকে খুন। পুণের ব্যবসায়ী-পুত্র কেতন অগ্রবালের খুনের খবর ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে শোরগোল সৃষ্টি করেছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর সহকর্মী তথা প্রেমিক চেতন চৌধরি। ইতিমধ্যে সিয়া-কেতন এবং সিয়া-চেতনের নানা ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। এ বার সামনে এল ঘটনাটি ঘটার আগের দিন, ১৮ জুন পুণের এক ক্যাফেতে চেতনের সঙ্গে সিয়ার দেখা করার মুহূর্তের ভিডিয়ো। ভিডিয়োর ক্যাপশন অনুসারে সেই দিন চেতনের সঙ্গে সিয়া বিকেল ৪টে ৪৫-এ সেই ক্যাফেতে প্রবেশ করেন এবং সাড়ে ৫টায় সেখান থেকে একসঙ্গেই বেরিয়ে যান। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
কেতনের মৃত্যু প্রথমে নিছকই দুর্ঘটনা বলে মনে হয়েছিল। পরে গিয়ে সামনে আসে ভয়ঙ্কর সত্য। তদন্ত যত এগিয়েছে, এমন বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে, যে কারণে এই ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের বাগ্দত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল। সিয়ার ফোন, সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কল ডিটেল-সহ বেশ কিছু গতিবিধি পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সহকর্মী চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সিয়ার। কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরির সঙ্গে পরিকল্পনা করে কেতনকে খুন করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সিয়া গয়ালকে ২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলায় গ্রেফতার সিয়ার সহকর্মী তথা প্রেমিক চেতন চৌধরিকেও মঙ্গলবার এক সপ্তাহের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুণে দায়রা আদালতের বিচারক। পুণে (গ্রামীণ) পুলিশের সুপার সন্দীপ সিংহ গিল মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ২২ বছরের চেতন এবং ২০ বছরের সিয়ার বিরুদ্ধে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ লোপের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি ক্যাফেতে একসঙ্গে প্রবেশ করছেন সিয়া এবং চেতন। তার পর সেই ক্যাফের ভিতরে তাঁদের বসতেও দেখা গেল। চেয়ার নিয়ে মুখোমুখি বসে গভীর কথোপকথনে ডুব দিতে দেখা গেল সিয়া এবং চেতনকে। হয়তো কী ভাবে কেতনকে খুন করলে কারও সন্দেহতালিকায় তাঁদের নাম উঠবে না সে নিয়েই আলোচনা করছিলেন তাঁরা। কথা বলার সময় সিয়া এবং চেতনকে একে অপরের হাত ধরতেও দেখা যায়। কথা বলার সময় উভয়কেই দেখে অত্যন্ত সজাগ মনে হচ্ছিল। হয়তো পাছে তাঁদের খুনের পরিকল্পনা কেউ শুনে না ফেলেন তার জন্যই চোখকান খোলা রেখে পরিকল্পনায় ডুব দিয়েছে তাঁরা। সেই ভিডিয়োই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
আরও পড়ুন:
‘হেট ডিটেক্টর’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরালও হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার বার ভিডিয়োটি দেখে ফেলা হয়েছে। নানা রকম মন্তব্যে ভরে গিয়েছে ভিডিয়োটির মন্তব্যবাক্স। চেতন এবং সিয়ার বিরুদ্ধে রাগে ফেটে পড়েছেন নেটাগরিকেরা। নানা রকমের নিন্দামূলক মন্তব্যে ভরে গিয়েছে ভিডিয়োটির মন্তব্যবাক্স। অনেকে কেতনের মৃত্যু ঘিরে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।