একটি টেবিলের উপর রাখা কেক। মোমবাতি জ্বালানো তার উপর। দেখেই বোঝা যাচ্ছে জন্মদিন উদ্যাপন হচ্ছে। এক জন হাঁটু মুড়ে বসে আর এক জনকে ‘প্রপোজ়’ করছেন। পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের জন্মদিনের একটি ছবি পোস্ট করেন তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল। ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি পোস্ট করে সিয়া লেখেন, ‘‘আমার জন্মদিনে তুমি নেই। আমাকে একা করে দিয়ে তুমি চলে গেলে এ ভাবে’! আবেগঘন সেই পোস্ট করেছিলেন ঠিক কেতনকে খুনের পরই। যাতে কেউ সন্দেহ করতে না পারেন। এমনটাই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে গাড়িতে রয়েছেন কেতন। তিনি চালকের পাশের আসনে বসে। পিছনের আসনে ছিলেন সিয়া। তাঁর দিকে ঘুরে কেতন গল্পে মশগুল ছিলেন। ইয়ার্কি-ঠাট্টা চলছিল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, কেতনকে খুনের ঠিক আগের ভিডিয়ো সেটি। খুব হাসিখুশি দেখাচ্ছিল কেতনকে। প্রসঙ্গত, ১৮ জুন কেতনকে লোনাভালায় লোহাগড় দুর্গে ট্রেক করতে নিয়ে গিয়ে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরির বিরুদ্ধে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, কেতনের মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই সিয়া ইনস্টাগ্রামে তাঁকে নিয়ে আবেগঘন সেই পোস্ট করেন। কেতনের মৃত্যুর জন্য শোকপ্রকাশের পাশাপাশি হঠাৎ এ ভাবে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও লেখেন । সিয়া লেখেন, ‘‘তুমি এ ভাবে ছেড়ে চলে গেলে? আমাদের বিয়ে যখন পাকা হয়ে গেল, সেই সময়ে তোমার আকস্মিক চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে।’’ সিয়া আরও লেখেন, ‘‘আমি এখনও বুঝতে পারছি না, কেন তুমি এ কাজ করলে। আমার অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে। অনেক প্রশ্ন ছিল। তার উত্তর কে দেবে? তোমাকে এত ভালবাসার পরেও এ ভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারলে? তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি।’’ আরও একটা পোস্ট করে সিয়া। সেখানে লেখেন, ‘‘আমার মন বলছে আশপাশেই আছো তুমি। আমার কাছে এসো।’’
তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্ট করে বিষয়টি ঘোরানোর চেষ্টা করেছিলেন সিয়া। কেতনের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পরিকল্পনা করে সমাজমাধ্যমে কেতনের জন্মদিনের ছবি দিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছিলেন সিয়া। পুলিশ ইতিমধ্যেই সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরিকে গ্রেফতার করেছে। ২৯ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজত হয়েছে সিয়ার। এক সপ্তাহ পুলিশি হেফাজত হয়েছে চেতনের।