ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতিতে রাশ টানতে প্রস্তাব ফের পাশ হয়েছে মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটে। আর তাতেই চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ভুলভাল সময়ে অবান্তর প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে আরও দুর্বল করতে তিনি যে পদক্ষেপ করেছেন, তা সম্পন্ন করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানকে ‘সন্ত্রাসের মদতদাতা’ বলে কটাক্ষ করে লিখেছেন, “ওদের (ইরান) সঙ্গে আমি যা করছি, আমেরিকা তা পছন্দ করছে না। আমায় থামতে বলা হচ্ছে। আর এই ভাবেই শত্রুদের সাহায্য করা হচ্ছে।” সেনেটে যুদ্ধবিরোধী যে প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে, তাতে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির চার সদস্যও ভোট দিয়েছেন। তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “এরা আমার কাজটা আরও কঠিন করে দিল। কিন্তু আমি একে একে সবই করব।”
মঙ্গলবার মার্কিন সেনেটে যুদ্ধবিরোধী সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ৫০ জন। বিরুদ্ধে ৪৮ জন ভোট দেন। সেনেটে ভোটাভুটির সময় ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজ়োলিউশন’ বা যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারেন। তবে ওই সময়সীমা পর্যন্তই নিজের সিদ্ধান্তে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। তার পর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় নিতে পারেন। বাস্তব বলছে, ওই সময়সীমার ধার ধারেননি ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনার পরে ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। ১৭ জুন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (মউ) সই করেছিলেন। তার পর আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শুরু হয় শান্তি আলোচনা। সেই আলোচনার মধ্যেই মার্কিন সেনেটের এই ‘সিদ্ধান্ত’ প্রকাশ্যে এল। প্রসঙ্গত, সেনেটের প্রস্তাবটি আইনত বাধ্যতামূলক নয়। তাই এর জেরে সরকারের অবস্থান বা নীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অনেকের মতে, এই ভোটাভুটি সাধারণত প্রতীকী হয়ে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।
তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সেনেটে এই ভোটাভুটির ফল ট্রাম্পের কাছে একটি ধাক্কা। কারণ, এত দিন ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর পদক্ষেপ পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছিল তাঁর দলের অন্দরে। যদিও এই ভোটাভুটির ফল থেকে স্পষ্ট, কিছুটা হলেও ট্রাম্পের ইরান-নীতিতে খুশি নন তাঁর দলের সদস্যেরাই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৮:০৩
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের -
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?
-
সুইৎজ়ারল্যান্ডের পথে ট্রাম্পের দূত, ইরান থেকে যেতে পারেন বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি, জল্পনায় শান্তি-বৈঠকের প্রথম দফা