Advertisement
E-Paper

ইরানের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান নিয়ে ফের ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প! সমর্থন দিল না মার্কিন কংগ্রেস, ভোটাভুটিতে হারলেন সেনেটে

সেনেটে ভোটাভুটির সময় ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষ থামানো নিয়ে মার্কিন সংবিধানের এই আইন নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১০:০৩
US senate votes to halt Iran war in rebuke to Donald Trump

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

মার্কিন সেনেটে ভোটাভুটিতে হেরে গেলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধাক্কা খেল তাঁর যুদ্ধনীতি। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সায় নেই মার্কিন কংগ্রেসের। মাত্র দুই ভোটে হারতে হল রিপাবলিকান নেতাকে। মঙ্গলবার সেনেটে যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ভোটাভুটির ফল হয় ৫০-৪৮। এই প্রথম বার কংগ্রেসের উভয় কক্ষ এমন একটি প্রস্তাব পাশ করল, যা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয় ট্রাম্পকে।

প্রশ্ন উঠছে, কংগ্রেসের এই আপত্তি আদৌ কানে তুলবেন ট্রাম্প? অনেকের মতে, এই ভোটাভুটি সাধারণত প্রতীকী হয়ে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তবে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সেনেটে এই ভোটাভুটির ফল ট্রাম্পের কাছে একটি ধাক্কা। কারণ, এত দিন ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর পদক্ষেপ পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছিল তাঁর দলের অন্দরে। যদিও এই ভোটাভুটির ফল থেকে স্পষ্ট, কিছুটা হলেও ট্রাম্পের নীতিতে খুশি নন তাঁর দলের সদস্যেরাই।

সেনেটে ভোটাভুটির সময় ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজ়োলিউশন-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত। প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতাবলে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারেন। ওই সময়সীমা পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। এর পর সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় আরও নিতে পারেন। যদিও সেই সময়সীমার ধার ধারেননি ট্রাম্প। অব্যাহত ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান। শেষপর্যন্ত পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনার পরে ৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেহরান। ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজ়েশকিয়ান ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (মউ) সই করেছিলেন। তার পর আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শুরু হয় শান্তি আলোচনা। সেই আলোচনার মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসের এই ‘সিদ্ধান্ত’ প্রকাশ্যে এল।

সংঘর্ষ থামানো নিয়ে মার্কিন সংবিধানের এই আইন নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। বার বার তাঁকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাঁর মতে, এই নিয়ম ‘অসাংবিধানিক’। তাই এটা মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম বিতর্কিত আইনি প্রশ্ন হিসাবেই থেকে গিয়েছে বরাবর। হয়তো এর মীমাংসা আদালতেই হবে। মার্কিন কংগ্রেসের ‘রায়’ও সম্ভবত সাংবিধানিক কারণ দেখিয়ে অবজ্ঞা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন, মনে করছেন অনেকে। এটি কার্যকর করার দাবিতে কেউ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১৪ মিনিট আগে
US-Iran War US Senate

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy