Advertisement
E-Paper

বাবার মৃত্যু সিবিআই হেফাজতে, বগটুই মামলার ৪ বছর পর লালনের পুত্রকে পাকড়াও, এখনও অধরা দুই

গ্রেফতারের স্থান এবং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতে সিবিআইয়ের দাবি, তাদের অফিস চত্বর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করেননি। অন্য দিকে, ধৃতের আইনজীবী অমিত লাহার অভিযোগ, গ্রেফতারির ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা মানা হয়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ২১:১৯
Arrest in Bogtui Incident

বগটুই-কাণ্ডে গ্রেফতার লালন শেখের পুত্র রোহন শেখ। —নিজস্ব চিত্র।

বীরভূমের বগটুই হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর চার্জশিটে নাম থাকা এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ধৃতের নাম রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখ। বীরভূমের রামপুরহাট থানার পূর্বপাড়ায় তাঁর বাড়ি। ঘটনাচক্রে বগটুইকাণ্ডে আর এক অভিযুক্ত অভিযুক্ত লালন শেখের পুত্র তিনি। সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন লালনের রহস্যমৃত্যু হয়েছিল। বুধবার রোহনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত।

মঙ্গলবার কলকাতার মির্জা গালিব রোড এলাকা থেকে রোহনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের আদালতে পেশ করে সিবিআই। গ্রেফতারের স্থান এবং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতে সিবিআইয়ের দাবি, তাদের অফিস চত্বর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আত্মসমর্পণ করেননি। অন্য দিকে, ধৃতের আইনজীবী অমিত লাহার অভিযোগ, গ্রেফতারির ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা মানা হয়নি। ধৃতের আত্মীয়-স্বজনকে তাঁর গ্রেফতারির খবরও দেওয়া হয়নি।

ধৃত লালনের পুত্রের বগটুইকাণ্ডের সময় বয়স ছিল ১৮ বছর। তাঁর আইনজীবী ওই কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করেছিলেন। সিবিআই তার বিরোধিতা করে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে আদালতে। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর বিচারক রাজেশ তামাং ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ৩০ জুন তাঁকে আবার আদালতে হাজির করতে বলেছেন।

সিবিআই সূত্রে খবর, বগটুইকাণ্ডের প্রথম থেকে রোহনের জড়িত থাকার কথা সামনে আসে। এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকে গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত। তদন্ত সম্পূর্ণ করে সিবিআই চার্জশিট পেশ করে। পরে আরও তিন বার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাতে রোহন-সহ মোট ২৭ জনের নাম রয়েছে। তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছে চার্জশিটে। লালন-পুত্রের নামে হুলিয়া জারি হয়। পরে তাঁকে ঘোষিত অপরাধী হিসাবে ঘোষণা করেছে রামপুরহাট আদালত।

ধৃতের আইনজীবী জানান, বগটুই মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট পেশ করেছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জন মারা গিয়েছেন। এর আগে ২২ জন ধরা পড়েছেন। এখনও দু’জন ধরা পড়েননি।

২০২২ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যায় বগটুই মোড়ে বোমার আঘাত এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখ। তার পরে পুরো এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে। গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আগুনে পুড়ে শিশু ও মহিলা-সহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হাই কোর্টের নির্দেশে ওই ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতেই সিবিআইয়ের তরফে মামলাটি অন্যত্র সরানোর জন্য হাই কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় মামলাটি পূর্ব বর্ধমান জেলা আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। জেলা জজ আবার ওই মামলা বিচারের জন্য চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে পাঠিয়ে দেন। সেখানেই বর্তমানে বিচার চলছে।

Bogtui Custodial death in Bogtui Case CBI Bardhaman court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy