Advertisement
E-Paper

শশাঙ্ক বিলের এক অংশ ভরাট করে নির্মাণ কাজের অভিযোগ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি বর্ধমান শহরের পরিবেশপ্রেমীদের

বাঁকা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই বিশাল জলাভূমি বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল ধারণ করে শহরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০৬:২৯
ঘটনাস্থলে বিএলআরও দফতরের আধিকারিকেরা।

ঘটনাস্থলে বিএলআরও দফতরের আধিকারিকেরা। নিজস্ব চিত্র।

প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের বর্ধমান শহরের শশাঙ্ক বিল ভরাটের অভিযোগ। শহরের আনন্দপল্লি, শ্রীপল্লি, জিটি রোড এবং ২ নম্বর ইছলাবাদ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত প্রায় ৩০০ বিঘা জলাশয় বোজানোর কাজ গত দু’সপ্তাহ ধরে চলছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের। বুধবার বিষয়টি জানতে পেরে বিএলআরও দফতরের আধিকারিক এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখতে গেলে প্রোমোটার সংস্থার লোকজন তাঁদের প্রবেশে বাধা দেয় বলে অভিযোগ উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দারের সঙ্গে রীতিমত বচসা হয় তাঁদের বলেও জানা গিয়েছে। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিএলআরও আধিকারিক প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ব্রিটিশ আমল থেকে পরিচিত এই শশাঙ্ক বিল বর্ধমান শহরের প্রাকৃতিক জলধারণ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাঁকা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই বিশাল জলাভূমি বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল ধারণ করে শহরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করে। সেই জলাভূমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা আরও জানান, জলাভূমির চরিত্র পরিবর্তন করে শালিজমি হিসেবে নথিভুক্ত করার পর বহুতল আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় প্রোমোটার সংস্থার তরফ থেকে।বর্তমানে সাবমার্সিবল পাম্পের সাহায্যে জল সরানো, রাস্তা তৈরির জন্য মাটি ফেলা এবং অন্যান্য নির্মাণ কাজের প্রস্তুতী চলছে বলেও অভিযোগ।

উল্লেখ্য, এই জলাভূমিকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৪ সালে বর্ধমান পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান স্বরূপ দত্ত অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ‘নো অবজেকশন’ সংক্রান্ত নথি জমা দিয়ে জমির চরিত্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আজও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।

পরিবেশবিদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আশুতোষ পাল জানান, এই জলাভূমি ধ্বংস হলে শুধু শহরের পরিবেশগত ভারসাম্যই নয়, বিপন্ন হবে এলাকার জীববৈচিত্রও। প্রতি বছর এখানে বহু পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে, পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ ও স্থলজ প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও পরিচিতত এই বিল।

শশাঙ্ক বিল রক্ষার দাবিতে এবার বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবেশপ্রেমী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Bardhaman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy